জার্মানিতে বর্ণবাদের উত্থান, বাড়ছে আতঙ্ক!

তৌহিদ আজিজ  

 

জার্মানির হানাও শহরে সাম্প্রতিক হামলায় ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহের তীর এখন উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে। ধারণা করা হচ্ছে নেপথ্যের কলকাঠি তাদের মধ্য থেকেই নাড়ানো হচ্ছে। দুটি শিশা বারে সেদিন হামলা চালানো হয়। পরে অবশ্য হামলাকারী ও তার মায়ের মৃতদেহ একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়। হামলাকারী আত্মহত্যা করলেও এর রহস্য নিয়ে কাজ করছে তদন্ত সংস্থাগুলো।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে, তা হচ্ছে এর পিছনে উগ্র ডানপন্থিদের মদদ কিংবা তাদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা যে সামনে আরো ঘটবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই তারা ঘটনার পিছনের ঘটনাকে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে যে কয়জন নিহত হয়েছে তার মধ্যে পাঁচ জন তুরস্কের নাগরিক। জার্মানিতে নিয়োজিত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আলী কামাল আয়দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘এ হামলা এটিই প্রমাণ করে যে, ইউরোপে বর্ণবাদ এবং ইসলামবিদ্বেষ বাড়ছে।’ খোদ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলও একই দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এর সঙ্গে উগ্র ডানপন্থি চরমপন্থার যোগসূত্র থাকতে পারে। অন্য জাতিসত্তা, ধর্ম এবং চেহারার প্রতি বিদ্বেষ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে নানা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’ এ নিয়ে দেশটির কট্টর ডানপন্থি এএফডি (অলটারনেটিভ ফর ডয়চেল্যান্ড) দলের দিকেই বেশি আঙুল উঠছে। যদিও এ নিয়ে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দলটির পক্ষ থেকেও এর নিন্দা জানানো হয়েছে। এএফডি বলেছে, এ ধরনের হীন কর্মকাণ্ড কখনোই তারা সমর্থন করেন না। এটি তাদের দলীয় নীতি ও আদর্শের বিপরীত। দলটি আরো জানিয়েছে, লোকটি কোনো মানসিক বিষাদগ্রস্ততা থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। অপরদিকে হামলাকারী সম্পর্কে যে সব তথ্য উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে সে চরম ইসলামবিদ্বেষী। মুসলিম দেশগুলো সম্পর্কে তার নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে সে একটি চিঠিও রেখে গেছে। এছাড়া হামলার আগে একটি ভিডিও বার্তা অনলাইনে পোস্ট করেছে সে। বিষয়টি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে তদন্ত সংস্থাগুলো। এ ঘটনার পর জার্মানির সবচেয়ে বড়ো চারটি ইসলামিক সংগঠন এ ধরনের উগ্র ডানপন্থিদের কর্মকাণ্ড রুখে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

জার্মানিতে গত কয়েক বছরে মসজিদসহ মুসলিমদের ওপর হামলার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের পর থেকে সেখানে শরণার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে সেখানে শরণার্থীবিরোধী বেশ কিছু বিক্ষোভও হয়েছে। অনেকে বলেছেন, জার্মানির মাটি শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না।