করোনা মায়েরা হোক সচেতনতার হাতিয়ার

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কিত। আসলে এমন এক প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবারই কথা। কিন্তু এই ভাইরাসের যেহেতু এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি, তাই আতঙ্কিত না হয়ে হতে হবে সতর্ক।

সতর্ক থাকা হচ্ছে যথাসম্ভব নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। একটি পরিবারের সবাইকে সতর্ক রাখার ব্যাপারে মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারে মায়েরা। সব বিষয়েই তারা যেমন পরিবারের খেয়াল রাখে, তেমনি এই বিষয়েও  তাদের হতে হবে সতর্ক।

মায়েদের একটু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। এ সময়ে বাসায় কাজের বুয়া না রাখাই ভালো। কারণ তারা কোথায় থাকে, কি করে, কোন পরিবেশ থেকে আসে—সেটা জানা যাবে না। তাই কদিন নিজের কাজ নিজেই করা ভালো। শিশু ও বৃদ্ধদের রাখতে হবে সাবধানে। বাচ্চাদের সবসময়ই মাস্ক পরিয়ে রাখতে হবে। কারণ বাচ্চারা তো নিজেরা সতর্ক থাকতে পারে না। নিয়ম করে তাদের স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দিতে হবে। বৃদ্ধদের বেলায়ও একই নিয়ম। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের খাবার ও টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হতে হবে সচেতন। এসব কাজের আগে ও পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে হাত ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। যারা বাহির থেকে আসবে তাদের সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিতে হবে বাথরুমে, সেখান থেকে গোছল করে জামা কাপড় ধুয়ে আসবে। মায়েরা নিজেদের সচেতনতার জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করবে। বাসার সব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করবে, বারবার জীবাণুনাশক দিয়ে পরিশোধিত হতে হবে। বিশেষ করে যেসব জায়গায় সবার হাত যায়, যেমন-দরজার ছিটকিনি, হাতল, চেয়ারের হাতল, বিদ্যুতের সুইচ ইত্যাদি। কেউ যেন নাকে মুখে-হাত না দেয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় কনুই মুখের সামনে দিতে হবে অথবা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহূত টিস্যু ফেলে দিতে হবে ডাস্টবিনে। বাসায় বেশি করে ফ্রেশ খাবার, সবুজ শাকসবজি রান্না, রান্নার সময় ভালো করে সিদ্ধ করতে হবে, ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

করোনা প্রতিরোধে মায়েরা হয়ে উঠতে পারে দুরন্ত হাতিয়ার। মায়েরা সচেতন হলে সচেতন হবে পুরো পরিবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ডাক্তাররা যেভাবে বলছে মায়েরা সেভাবে চলবেন আর অবশ্যই পরিবারকে সেভাবেই পথ দেখাবেন।