সম্প্রতি অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আবেদনের কার্যক্রম, চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত। আবেদনের বিস্তারিত নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন
আবেদনের যোগ্যতা :কমপক্ষে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অবিবাহিত ও বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। সাধারণ পুরুষ ও অন্যান্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, ওজন ৪৯.৮৯৫ কেজি ও বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২-৩৪ ইঞ্চি হতে হবে। উপজাতি পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৪৭.১৭৩ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০-৩২ ইঞ্চি হতে হবে। দৃষ্টিশক্তি চাওয়া হয়েছে ৬ বাই ৬। অগ্রাধিকার পাবেন অধিক উচ্চতাসম্পন্ন, শহীদ পরিবারের সদস্য, তালিকাভুক্ত আনসার-ভিডিপি সদস্য ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পারদর্শীরা। ৩০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে বয়সসীমা ১৮ থেকে ২২ বছর। আবেদন পদ্ধতি:বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রিক্রুটমেন্ট পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ২০০ টাকা পোর্টালে বিকাশ বা রকেট অথবা মোবিক্যাশের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। আবেদন শেষে অনলাইনে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। এটি প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাছাই পরীক্ষার সময় সঙ্গে নিতে হবে।
যে কাগজপত্র লাগবে :প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্রের এক কপি ফটোকপিসহ মূল সনদ সঙ্গে নিতে হবে। অবিবাহিত মর্মে মেয়র অথবা কমিশনারের কাছ থেকে লিখিত আনতে হবে। এ ছাড়া পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা ছয় কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি লাগবে। আনসার-ভিডিপির সদস্য, এতিমখানা নিবাসী ও উপজাতি কোটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদ লাগবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সম্পাদিত হলফনামা অথবা সাকসেশন সার্টিফিকেট উপস্থাপন করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে কলম, পেনসিল ও ক্লিপবোর্ড।
পরীক্ষার প্রস্তুতি :শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় টেকার জন্য প্রার্থীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত উচ্চতা ও ওজন ঠিক থাকতে হবে। এ ছাড়া বয়স, বুকের প্রস্থ ও ওজন ঠিক আছে কি না যাচাই করা হবে। শরীরের বিভিন্ন অংশে কোনো কাটা-ছিঁড়া বা শারীরিকভাবে কোনো ফ্র্যাকচার রয়েছে কি না পরীক্ষা করা হবে। দৌড়ের সময় দুই হাঁটু মিলে যায় কি না, হাতের আঙুল ঠিক আছে কি না—এসব বিষয় দেখা হবে। শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষা করা হবে। এর জন্য অংশ নিতে হবে দৌড় প্রতিযোগিতা, হাই জাম্প, লং জাম্পে। এসব বিষয় ভালো করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। শারীরিক পরীক্ষার সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরে যাওয়াই ভালো।
লিখিত পরীক্ষা :শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মিলবে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক (ব্যাটালিয়ন-রেকর্ড) হোসনে আরা হাসি জানান, ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। পঞ্চম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের সিলেবাস অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হবে। সুযোগ থাকলে বিগত বছরের প্রশ্ন সংগ্রহ করে দেখে নিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলায় রচনা, ভাব-সম্প্রসারণ, এককথায় প্রকাশ, সন্ধিবিচ্ছেদ, বাগধারা বা সমার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের জীবন ও কর্ম, বিখ্যাত গ্রন্থের নাম, চরিত্রের নাম থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। কবি-সাহিত্যিকের উল্লেখযোগ্য উক্তি দিয়েও ব্যাখ্যা করতে বলা হতে পারে। ইংরেজিতে সাধারণত Fill in the Gaps, Tense, Noun, Pronoun, Adjective, Sentence Making, Translation থেকে প্রশ্ন আসে।
গণিতে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের পাটিগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন আসে। লসাগু-গসাগু, সুদকষা, শতকরা ও লাভ-ক্ষতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সাধারণ জ্ঞানে সাধারণত প্রশ্ন কম আসে। এ বিষয়ে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
মৌখিক পরীক্ষা : মৌখিক পরীক্ষায় বরাদ্দ ৩০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই শুধু মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রার্থীর কথা বলার ধরন, চিন্তাচেতনা, দেশপ্রেম, কঠোর পরিশ্রম করার স্পৃহা, বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা দেখা হয়ে থাকে মৌখিক পরীক্ষায়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।
বেতন-ভাতা :ব্যাটালিয়ন আনসাররা সমতলে ও পাহাড়ি এলাকায় কাজ করার সময় যথাক্রমে দৈনিক ৫১৬.৬৬ ও ৫৩৩.৩৩ টাকা হারে ভাতা পাবে। তবে প্রশিক্ষণকালীন ভাতা দৈনিক ১৫০ টাকা। থাকছে ১০ হাজার টাকা করে বছরে দুবার উত্সবভাতা।
এ ছাড়াও কর্মরত অবস্থায় কোনো ব্যাটালিয়ন সদস্য স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলে অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলে এক লাখ টাকার জীবন বীমা সুবিধা পাবে। কর্মরত অবস্থায় নিহত হলে তার পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হলে দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।