মা নুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্যান্য জীব থেকে তার পার্থক্য সে বুদ্ধিমান ও নিয়মের অধীন। শৃঙ্খলাবোধ মানুষের জীবনকে শান্তিময়, সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। মানুষ কী করবে এবং কী করবে না এর একটা বিধিনিষেধের গণ্ডি ইসলাম তাকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। গণ্ডির বাইরে যাবার কোনো সুযোগ তার নেই। ইসলাম মানেই হলো আত্মসমর্পণ করা, মেনে চলা। কেউ যখন একবার ইসলামের গণ্ডিতে চলে আসে তখন সে তার জীবনটাকে আর মনের ইচ্ছে অনুযায়ী চালাতে পারে না; ইসলাম যে বিধিনিষেধ দিয়েছে সেগুলো তাকে মেনে চলতে হয়। মানা বা শৃঙ্খলার বিধান যে শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রে এমনটা নয়; পার্থিব ক্ষেত্রেও সবখানে তাকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এটা বান্দার জন্য ইবাদত।
ধর্মীয় আইনের বাইরেও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ মেনে চলা মুমিনের কর্তব্য। রাষ্ট্রের আইন অমান্য করা কোনো প্রকৃত মুমিনের কাজ নয়। সামাজিক অনেক বিধিনিষেধ আছে যা কেবল সামাজিক কারণেই মেনে চলতে হবে এমনটি নয়; বরং ধর্মীয় অনুশাসন বজায় রাখার জন্যও তা মেনে চলা কর্তব্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যে বিধিনিষেধ একজন নাগরিকের জন্য জারি করা হয় তা প্রত্যেকটা মুমিনেরই মেনে চলা কর্তব্য। মানব কল্যাণে আধুনিক যুগের প্রচলিত যে আইন-কানুন রয়েছে কুরআন-হাদীসে যেগুলোর সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই, ইসলাম তা মেনে চলতে বারণ করেনি। এগুলো রাষ্ট্রীয় আদিষ্ট ব্যাপার। তাই এগুলো মেনে চলা জনসাধারণের জন্য আবশ্যকীয়। বরং এসব আইন-কানুন না মানার কারণে সমাজে যদি কোনো দুর্ঘনা ঘটে তাহলে সে কারণে তার পাপ হবে। তবে আল্লাহর নাফরমানিমূলক নির্দেশনা মানতে মুমিন নাগরিকগণ বাধ্য নন।
মানব জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে হযরত আলী (রা) বলেন- ‘মানুষের জীবনটাকে যথার্থ ও সঠিকভাবে যাপন করার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলা। সে জন্য তার জীবনের সময়টাকে তিনটি খাতে ব্যয় করা উচিত- ১. জীবনের কল্যাণের জন্য, ২. আত্মিক শান্তি এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য, এটা অর্জিত হবে কেবল আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী ও তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, এবং ৩. শারীরিক এবং মানসিক শক্তি লাভের জন্য।’
তিনি আরো বলেন- ‘মুমিনের জীবনের কর্মপরিকল্পনায় তিনটি সময় সুনির্দিষ্ট থাকা উচিত— ১. তার স্রষ্টার ইবাদতের জন্য, ২. হালাল জীবিকা উপার্জনের জন্য, এবং ৩. সত্ ও বৈধ আনন্দ উপভোগের জন্য।’ আমরা যদি আমাদের জীবনটাকে সুশৃঙ্খলিতভাবে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করতে চাই তাহলে হযরত আলী (রা)-এর এই তাত্পর্যপূর্ণ নসীহতগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশে পালন করতে হবে। হযরত আলী (রা) সম্পর্কে রাসূলে করীম (স) বলেছেন- ‘আমি হচ্ছি ইলেমর শহর, আর আলী হচ্ছে সে শহরের দরজা।’
লেখক: ধর্মীয় আলোচক, উপস্থাপক ও খতীব,
জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ, ঢাকা