ইসলামের সৌন্দর্য সৌহার্দ্য ও সম্প্র্রীতি

ইসলামে পরস্পর বিবাদে জড়িয়ে পড়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- ‘আর তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে, পরস্পর বিবাদ করবে না। অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিনষ্ট হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, অবশ্যই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সূরা আনফাল, আয়াত ৪৬)

স মাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য একে অন্যের সাথে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। যে সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসা নেই, সে সমাজ মানবের সমাজ নয়। মু’মিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাঁর পাক কালামে ইরশাদ করেন-

‘নিশ্চয়ই মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের ভ্রাতৃগণের মাঝে শান্তি স্থাপন করো আর আল্লাহেক ভয় করো, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১০) আল্লাহ আরো বলেন— ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহ যে অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ করো, তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু, তিনি তোমাদের হূদয়ে ভালোবাসার সঞ্চার করেছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গিয়েছো।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩)

অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ (স) বলেন- ‘মুসলমানের পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়ার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গে ব্যথা অনুভূত হয়, তখন সারা অঙ্গ তা অনুভব করে।’ (সহীহ্ মুসলিম) রাসূলল্লাহ (স) আরো বলেন- ‘মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। একে অন্যের প্রতি অন্যায় করবে না, কারো সাহায্য ছাড়বে না। যে অপর মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন। যে অপর মুসলমান ভাইয়ের একটি দুঃখ দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার অনেক দুঃখ দূর করে দিবেন। যে অপর মুসলমানের ইজ্জত রক্ষা করবে, আল্লাহ তার ইজ্জত রক্ষা করবেন।’ (বুখারী, মুসলিম)

মু’মিনের প্রথম ও কাছের স্বজন হচ্ছে তার প্রতিবেশীগণ। তাই সবার আগে তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। হযরত মা’আয (রা) বলেন, আমি যখন ইয়ামেনের শাসনকর্তা হয়ে রওয়ানা করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে উপদেশ দিয়ে বললেন- ‘হে মা’আয! মানুষের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে তোমার শাসনকার্য পরিচালনা করো।’ (মুয়াত্তা মালেক) মূলত সমাজে সৌহার্দ্য-সমপ্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন মানুষকে যথোচিত সম্মান করা। মানুষ, সে যে ধর্ম ও বর্ণের হোক না কেন তাকে তার মর্যাদা অনুযায়ী সম্মান দিতে হবে। নবী করীম (স) বলেন- ‘লোকদের মর্যাদা অনুযায়ী তাদের সাথে আচরণ করো।’ (মেশকাত)

এছাড়া ইসলামে পরস্পর বিবাদে জড়িয়ে পড়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- ‘আর তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে, পরস্পর বিবাদ করবে না। অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিনষ্ট হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, অবশ্যই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সূরা আনফাল, আয়াত ৪৬) সকল প্রতিকূল অবস্থায় আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং পরস্পর প্রতিহিংসা ও বিবাদ এড়িয়ে চলতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে এ জগত্ থেকে বিদায় নিতে পারব। আল্লাহ সকলকে সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতি বজায় রেখে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন!

লেখক: আজিমপুর দায়রা শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীর ও মুতাওয়াল্লী