রাজশাহীতে করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে যুবক

রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক যুবককে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়া ও জয়পুরহাটে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাতজন রোগী। এদিকে রাজশাহী বিভাগে রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় নতুন হোম কোয়ারেন্টাইনে এসেছে ১৩১ জন। এ সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে কম।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ৩০ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে ল্যাবে ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অধ্যক্ষ নওশের আলী। 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিস সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আসে ৬ হাজার ৮৪০ জন। তবে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া থেকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০৯ জন।

এদিকে সোমবার বেলা ১১টায় রামেক হাসপাতালের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, করোনা সংক্রমিত সন্দেহে এক যুবককে আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয়। ওই যুবকের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজিজুল হক আজাদ জানান, ওই যুবকের সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে। তবে এখনো আমরা তার আক্রান্ত হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত নই। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

রামেক অধ্যক্ষ বলেন, করোনা ল্যাবে প্রতিদিন ৬ থকে ৭ জনের পরীক্ষা করা যাবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে সময় লাগবে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা। ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনেহারকে ল্যাবের প্রধান করে চিকিৎসক ও নার্সসহ ৩০ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। অনলাইনে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। এছাড়াও ল্যাব স্থাপনে যারা আসছেন তারা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

আরো পড়ুন: নির্দেশনা অমান্য করে হাট-বাজারে জনসমাগম, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই (পার্সনাল প্রটেকটিভ ইকুইমপেন্ট) সরবরাহ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য অবজারভেশন টিমও গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা টিমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন ডা. আজিজুল হক আজাদ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বসে কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন এবং সেই অনুসারে সম্মিলিতভাবে কাজ হবে।

তিনি বলেন, করোনা উপসর্গ ছাড়া জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগী হলে তাদেরকে ৩৯ ও ৪০ ওয়ার্ডে সিফট করা হচ্ছে। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ড (৩০ নং ওয়ার্ড) ৩১ মার্চের মধ্যে খালি করে সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অবজারভেশনে রাখা হবে। কোনো রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হবে।  

ইত্তেফাক/এএএম