মিল বন্ধ, বেতনের দাবি ও গুজবে মহাসড়কে দুই সহস্রাধিক শ্রমিক

কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতনের দাবিতে এবং গুজবে মহাসড়ক অবরোধ করেছে দুটি জুট মিলের প্রায় দুই সহ¯্রাধিক শ্রমিক। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাশহর-হাড়িখোলা এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। করোনার সংক্রমণকে উপেক্ষা করে চলা অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় চার কিলোমিটারের যানজট সৃষ্টি হয়। পরে চান্দিনা থানা পুলিশ, দেবীদ্বারা  থানা পুলিশ ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থরে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সানানগর এলাকার ঊষা জুট মিল ও নূরীতলা এলাকা আশা জুট মিলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। সরকারি বন্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার পর ৫ এপ্রিল খোলার কথা ছিল। পরবর্তীতে মিলের ওই ছুটি ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। রবিবার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা এসে মিল বন্ধ দেখে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। 

শ্রমিক রাবেয়া বেগম জানান- গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কাজ করার পর আমাদের ৩ সপ্তাহের বেতন বাকি থাকে। তখন বলা হয়েছিল ৫ তারিখ মিল খোলার পর বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু রবিবার এসে দেখি মিল বন্ধ। এদিকে সরকার থেকে নাকি প্রতি শ্রমিকের জন্য ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানালে মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের পাত্তা দেয় নাই। 

একাধিক শ্রমিক জানান, টানা ১০ দিন মিল বন্ধ থাকায় আমরা না খেয়ে আছি। অন্য মিলে শ্রমিদের বেতন পরিশোধ করার পাশাপাশি সরকারি ৫ হাজার টাকাও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ঊষা ও আশা জুট মিলে আমাদের পাওনা বেতনও দিচ্ছে না। 

আরও পড়ুন: কেউ চাকরি হারাবেন না: প্রধানমন্ত্রী 

মিলের সিবিএ সভাপতি সুজন মুন্সি জানান, মিলের অর্থনৈতিক সংকট থাকায় পাট কেনার জন্য গত দুই মাস পূর্বে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ৩ সপ্তাহের বেতন বকেয়া রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হঠাৎ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গত ২৫ মার্চ শ্রমিকদের এক সপ্তাহের বেতন প্রদান করে মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং মিল খোলার পর তাদের বকেয়া ২ সপ্তাহের বিল প্রদান করা হবে। কিন্তু শ্রমিকরা একটি গুজব রটিয়েছে যে, সরকার শ্রমিকদের পাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে সেটা মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দিচ্ছে না। এমন গুজবকে পুঁজি করে অযথা আন্দোলন শুরু করে। আমি মিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। 

এ ব্যাপারে ঊষা জুট মিলের সিনিয়র ব্যবস্থপনা পরিচালক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার প্রশাসনে যোগাযোগ করুন। 

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল ফয়সল জানান, সরকারি ৫ হাজার টাকার অনুদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন একটি গুজব ছড়িয়ে মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু অতিউৎসাহী লোক এক হয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রামণ বিস্তারে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমরা মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। 

ইত্তেফাক/এসি