শত্রুকে বন্ধু বানিয়েছে করোনা!

তৌহিদ আজিজ

 

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গোটা বিশ্ব যখন কাঁপছে, তখন দেশে দেশে বৈরিভাব কিছুটা হলেও কমে এসেছে। চিরশত্রু এখন বন্ধুত্বের হাত বাড়াতেও পিছপা হচ্ছে না। এ যাত্রায় ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সেই চিরচেনা রূপের সামান্যতম হলেও পরিবর্তন এসেছে। এরই মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে এতদিনকার কঠিন সম্পর্কের কিছুটা হলেও শীতলতার পরশ পেয়েছে।

সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ বিমান মুম্বাই থেকে ফ্রাংকফুর্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিমানে ছিল করোনা দুর্গতদের জন্য ত্রাণসামগ্রী ও আটকে পড়া বেশ কয়েক জন ইউরোপীয় নাগরিক। বিমানটি যখন পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে, তখন তারা কোনোভাবেই ইরানের এটিসির      (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। সে সময় পাকিস্তান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে বলা হয়, করাচি এয়ার ট্রাফিক আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে। তখন পাকিস্তান এটিসি তাদের ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে             দেন। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

বিশেষ বিমানটির এক সিনিয়র ক্যাপ্টেন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘ঐ মুহূর্তটি আমার জন্য দারুণ গর্বের। শুধু আমি কেন, এয়ার ইন্ডিয়ার সবার জন্যই এটি গর্বের বিষয়। পাকিস্তান এটিসি যখন আমাদের বিমানটিকে স্বাগত জানাল, সেই মুহূর্তের কথা আমি কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এ সময় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা আপনাদের জন্য গর্বিত। এই দুর্যোগময় মুহূর্তে আপনারা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা সবার মঙ্গল কামনা করছি।’ তখন ভারতের পক্ষ থেকেও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঐ ক্যাপেন্ট বলেন, ‘আমার পাইলটজীবনে এ ধরনের ঘটনা আমি কখনো পাইনি। বিষয়টি সত্যিই সম্মানের।’

বিশ্বব্যাপী করোনার এই ভয়াবহ তাণ্ডবে আজ সবাই প্রায় গৃহবন্দি। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।         যে চীনের উহান থেকে এর উত্পত্তি, সেখানে এর প্রাদুর্ভাব               কমে এলেও ইউরোপ, আমেরিকাসহ সবখানে এটি ছোবল মেরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দিকে একে অনেকেই আমলে নেননি। কিন্তু যখন আমলে নেওয়া হলো, ততক্ষণে বহু দেরি হয়ে গেল।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়, এটি শনাক্তে কিটের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আর শনাক্ত হয়ে গেলেও তো সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ এর প্রতিষেধক এখনো বের হইনি। গবেষকেরা, এর ভ্যাকসিন বের করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেটা কতখানি দ্রুত হবে সে প্রশ্নও থেকে যায়। কেননা, এই মুহূর্তে এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।