এবার করোনা সতর্কতায় রাজশাহী জেলা ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, দেশে ধীরে ধীরে করোনার রোগী বাড়ছে। তাই বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে হিসেবে আমরা রাজশাহীকে লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির খোন্দকার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক হমিদুল হক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য ও সিভির সার্জন ডা. এনামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, রাজশাহী জেলার সঙ্গে অন্যান্য জেলার যোগাযোগ বন্ধ আজকে (সোমবার) থেকেই। তবে জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও গণমাধ্যমের মতো জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক চলবে। দুই জেলার সীমানায় পুলিশ থাকবে। তারা যানবাহন ও মানুষের চলাচলের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। পুলিশের কড়াকড়িকে জনস্বার্থে মেনে নিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে বাদশা বলেন, আজ থেকেই রাজশাহী ‘লকডাউন’।
এসময় রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা অথবা মারা গেলে দাফন প্রক্রিয়া নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
এদিকে দুপুরেই পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা জুড়ে মাইকিং করে, ‘সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে জরুরি সেবা বাদে রিকশা ও মোটর সাইকেলসহ সবধরনের যান চলাচল পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেনো বাড়ির বাহিরে বের না হয় এবং রাজশাহীতে প্রবেশ ও বের হতে না পারে সে আইনশৃংখলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন: নিউইয়র্কে করোনায় বাংলাদেশ সোসাইটির নেতার মৃত্যু
বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে এখনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে শনাক্ত হলে মোকাবেলার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। রাজশাহীতে জেনারেল হাসপাতাল না থাকায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং তিনটি স্টেডিয়াম প্রস্তুত রাখার ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। এছাড়া আইনের কঠোর প্রয়োগ করে মানুষকে বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতি জরুরি ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। সড়কে জরুরি কাজে নিয়োজিত এবং পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন জানান, গত মার্চে রাজশাহীতে দুই হাজার ৯৫৯ প্রবাসী আসলেও এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন এসেছে এক হাজার ১০৫ জন, বর্তমানে রয়েছেন ২৯৪ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ৮১১ জন। বাকীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে সাতজনকে।
ইত্তেফাক/এএএম