বরিশাল শেবাচিমে আজ থেকে শুরু করোনা পরীক্ষা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আজ বুধবার থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শুরু হবে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, সোমবার বিকালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা দিয়েই প্রথম পরীক্ষা করা হবে। তিনি জানান, এ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ১০ জন চিকিত্সাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে পরীক্ষার ল্যাবটি।

সোমবার দিবাগত রাতে মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক বিভাগের দ্বিতীয় তলায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, আমরা আগেই বলেছি যত দ্রুত সম্ভব ল্যাবটি চালু করার চেষ্টা চলছে। এখন ল্যাব পুরোপুরি প্রস্তুত। মেশিনপত্র স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার থেকে ল্যাবের পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। তাই যে কোম্পানি মেশিন সরবরাহ করেছে তাদের চার জন লোক এক সপ্তাহ বরিশালে থাকবেন। তারাই ল্যাবে পরীক্ষার কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আমাদের যে জনবল রয়েছে তাদেরকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিবেন। সে অনুযায়ী বুধবার থেকে করোনা পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দুটি একই সঙ্গে শুরু হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার যে জনবল প্রয়োজন সেটা এখানে নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে জনবলের ব্যবস্থা করা যায় কি না সে বিষয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আপাতত কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম খানকে শেবাচিমে বদলি করে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দক্ষ জনবল থাকলে প্রতি ২৪ ঘণ্টয় ২০০ রোগীর করোনা ভাইরাস পরীক্ষা ও সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব।

এদিকে সোমবার রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পাঁচটি, মঙ্গলবার দুপুরে বাকেরগঞ্জে চারটি এবং সদর উপজেলার একটি বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। উজিরপুরে এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহসহ তার বাড়ি ও আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুরের এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা ও রোগীর বাড়িসহ চারটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল সদর উপজেলার তালতলীর এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে মৃত্যুর পর ঐ বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন।   এদিকে সোমবার বিকাল থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জনসমাগম রুখতে কঠোর হলেও মঙ্গলবার সকালে নগরীর বাজারগুলোতে তা কার্যকর থাকেনি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকলকে চলাচল করতে বলা হলেও তা মানছে না কেউ। নগরীর চকবাজার, পোর্টরোড, বাজার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় মানা হচ্ছে না নির্দেশনা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)।