সৌম্য সরকার এই সময়ে কোথায় থাকতে পারতেন? ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পারতেন। পাকিস্তানগামী দলে নির্বাচিত হলে হয়তো পাকিস্তানে থাকতেন। এমনকি ছুটি নিয়ে দুই-চার দিনের জন্য নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে কোনো দর্শনীয় স্থানে যেতে পারতেন মধুচন্দ্রিমা করতে। কিন্তু এর কোনোটাই হচ্ছে না।
করোনা ভাইরাসের প্রবল প্রতাপে সারা বিশ্বের মতো তিনিও বন্দি হয়ে আছেন চার দেওয়ালের মাঝখানে। ক্রিকেট নেই, ঘোরাঘুরি নেই, মোটরসাইকেল নেই; সবকিছু ছেড়ে এক বন্দিজীবন। তার পরও সৌম্য বলছিলেন, তিনি এই জীবন থেকে ইতিবাচক কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এমনিতে খেলায় ব্যস্ত থাকতে হয় সবসময়। তাই স্ত্রীকে অতটা সময় হয়তো দেওয়া যেত না। এই করোনাকালে পড়ে তবু নতুন স্ত্রীকে একটু বাড়তি সময় দেওয়া হচ্ছে, এতেই আপাতত খুশি বাঁ-হাতি এই টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। বলছিলেন, ‘যেটা হয়, আমরা তো বাসায় সময়ই দিতে পারি না। খেলা, প্র্যাকটিস নিয়েই কেটে যায় সময়। এখন তবু বাধ্য হয়ে হলেও পরিবারকে সময় দিচ্ছি। স্ত্রীর সঙ্গে অনেক সময় কাটছে। নেতিবাচক ব্যাপারই তো বেশি এখন। তার মধ্যেও এই ইতিবাচক ব্যাপারটাই ভেবে নিজেকে ভালো রাখছি।’
আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশ অমান্য করে টিএমএসএসের কিস্তি আদায়, ১৫ কর্মী আটক
এই জোর করে নিজেকে ভালো রাখার অবশ্য বিকল্পও নেই। সৌম্য নিজেই স্বীকার করলেন, সার্বিক অর্থে খুব হতাশার একটা সময় কাটছে। এই সময়টা এখন কত দ্রুত শেষ হয়, সেটা নিয়েই সৌম্যর ভাবনা, ‘এভাবে বন্দিজীবন কাটানোর অভ্যেস তো কারোরই নেই। আমাদের ক্রিকেটারদের তো এ রকম বাসায় আটকে থাকার অভ্যাস আরো কম। ফলে মানসিকভাবে সময়টা খুবই খারাপ কাটার কথা। কিন্তু আমি ভবিষ্যতের কথা ভাবছি। কবে এটা শেষ হলে আবার মাঠে ফিরব, সেসব নিয়ে ভাবছি। যাতে সময়টা আমাকে চেপে ধরতে না পারে, সেই চেষ্টা করছি।’
এর মধ্যে বলাইবাহুল্য সবচেয়ে বেশি মিস করছেন ক্রিকেট। বাসায় ফিটনেস নিয়ে কিছু কাজ করছেন। বিসিবির দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করছেন। তার পরও ক্রিকেটের আফসোস তো এসবে মেটে না। সৌম্য বলছিলেন, ‘কিছু ট্রেনিং আছে, বাসায় করা যায়। সেগুলো করছি। বোর্ড কিছু গাইড লাইন দিয়েছে। সেগুলোও করছি। কিন্তু ব্যাট-বলের খেলার অভাব তো এসবে মেটে না। তার পরও কিছু করার নেই। বাসায় থাকতে হবে। সবাইকে যেভাবে বলা হচ্ছে, সেভাবে বাসায় থাকতে হবে। নিয়ম না মানলে তো সবার বিপদ।’
সৌম্য নিজে যেমন বাসায় আছেন, সবাইকে অনুরোধ করছেন বাসায় থাকার জন্য। তার মতে এই কঠিন সময়টা পার করতে জীবনকে ক্রিকেটের মতো করে ভাবতে হবে, ‘আমি জানি, বাসায় আটকে থাকা খুব কঠিন। কিন্তু আমরাই তো বলি যে, ম্যাচ জিততে কষ্ট করতে হয়। সবাইকে বলব, একটু কষ্ট করেন। এই ম্যাচটা আমরা জিতবই। কষ্ট করে সবাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করেন।’
ইত্তেফাক/ইউবি