ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ডে অংশে দায়িত্বরত বার আউলিয়া থানা হাইওয়ে পুলিশ দিন দিন চাঁদাবাজীতে বেপরোয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়,লকডাউনকে উছিলা করে মহাসড়কে চলাচলকারী নিরীহ মানুষকে মারধর,গাড়ী ধরে জোর পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও অসহায়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া নিত্য দিনের ব্যাপার বলে অভিযোগ উঠে।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১টার সময় বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আওয়াল ও এস.আই সাইফুল এক নিরীহ রিক্সা চালকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয় এবং পরে জোর পূর্বক ৭ শত টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন। ঐ স্ট্যাম্পও সেই নিরীহ রিক্সা চালকের টাকায় কেনা।
অথচ দেশসহ সারা বিশ্ব যেখানে মহামারি করোনা ভাইরাস আক্রান্তে আতংকিত,সেখানে বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গত রবিবার দুপুরের দিকে ভাটিয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতালে এক রোগী নিয়ে যাচ্ছিল রিক্সা চালক জয়নাল আবেদীন।এ সময় আচমকা সামনে এসে দাঁড়ায় হাইওয়ে পুলিশের এস.আই সাইফুল। এরপর রোগী নামিয়ে গাড়ীটি হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় চালককে গালমন্দ করে।
এদিকে গত সোমবার সোর্সের মাধ্যমে ওসি এবং এস.আই সাইফুল রিক্সা চালককে ডেকে আনেন এবং ১০ হাজার টাকা দিলে গাড়ী ছেড়ে দিবে বলেন। সেই মোতাবেক ওইদিন রাতে টাকা নিয়ে থানায় আসেন রিক্সা চালক জয়নাল। প্রথমে টাকা নেন, এরপর বলেন এই স্ট্যাম্পগুলোতে স্বাক্ষর কর, যাতে জীবনে আর রিক্সা না চালাতে পারবি না
গত ১৭ মার্চ অপর এক রিক্সা চালকের গাড়ী গ্রাম থেকে ধরেন এস.আই সাইফুল। এরপর সোর্সের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।পরে নিরীহ রিক্সা চালক অনেকের কাছে গিয়ে টাকা যোগাড় করতে না পেরে তিনদিন পর অনাহারে পরিবারকে ভরণ-পোষন করতে না পারায় নিজেই আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে।
আবু তাহের নামে এক রিক্সা চালক বলেন, আমি ভাটিয়ারি গ্রামের একটি সড়কে রিক্সা চালানো অবস্থায় সাদা পোশাকে পুলিশ এসে আমাকে গালাগালি দিয়ে মারধর শুরু করে আমার গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।পরে আমি অভাবের মধ্যে ৩ হাজার ৭শত টাকা দিয়ে গাড়ী নিয়ে আসি।
এসব বিষয়ে জানতে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আউয়ালকে ফোন করলে ফোন ধরেন এএসআই সফিউল্লাহ। তিনি বলেন, ওসি স্যার বাহিরে আছেন। আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।তবে অভিযুক্ত এস.আই সাইফুল মারধর, টাকা নেওয়া ও ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আপনি ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন বলে লাইন কেটে দেন।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কুমিল্লা রিজিউন নজরুল ইসলাম বলেন,আপনি পারলে উনাদের কয়েকজনকে আমার কাছে মোখিক ও লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেন।
ইত্তেফাক/এসআই