ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু মেয়াদের এক বছর শেষ হলেও অভিষেক অনুষ্ঠান না হওয়ায় এ অর্থ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণের জন্য বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানও করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দকৃত এ অর্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।
বুধবার ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী এ দাবি জানান। তবে এ অর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
ডাকসুর এ সম্পাদক জানান, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। আমাদের অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা। দীর্ঘ এক বছর ধরে অভিষেক অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এরপর বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকা ডাকসুর কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয় ডাকসু। কিন্তু এখন নবীন বরণ করারও সুযোগ নেই। এখন টাকা দুর্যোগের সময়ে এ অর্থ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ব্যয় করা উচিত।
গঠনতন্ত্রের বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, যে গঠনতন্ত্র এই দুর্যোগে সহায়ক নয় সে গঠনতন্ত্র দিয়ে কি হবে? আইন মানুষের কল্যাণের জন্য, আইনের সংশোধন এবং পরিমার্জন সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অভিষেকের টাকাটা অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ব্যয় করা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এগুলো সরকারি অর্থ, এখান থেকে কোথাও বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। এগুলো করতে হয় সরকারি নীতিমালার আলোকে, অন্যথায় ফিন্যান্সিয়াল মিস ম্যানেজমেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থের সঙ্কট রয়েছে। আমরাতো চ্যারিটেবল না, সরকারি অর্থের উপরে আমাদের নির্ভর করতে হয়। তাই এ অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ