ব্যথার অনেক ওষুধ ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই কিনতে পাওয়া যায়, শুধু ফার্মেসি কেন, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও পাওয়া যায় ব্যথার ওষুধ।
পেশিতে খুব শুল হচ্ছে বা
প্রচণ্ড মাথাব্যথা। ব্যথার
ওষুধের বোতলের দিকে হাত বাড়ানোর আগে দেখে নিন
কোন ওষুধ খাচ্ছেন এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই বা কী কী
হতে পারে।
ওষুধের ওপর লেবেল পড়ে
নিন এই ওষুধ সেবনের নিয়মগুলোও জেনে নিন। ব্যথার ওষুধ আসে দুই প্রকারে। এসিটোএমিনোফেন (প্যানাডল, টাইলেনল) এবং নন-স্টেরয়ডেল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি (NSAIDS) ড্রাগ। দুটোই ব্যথা কমায়।
জ্বরও কমায়। NSAIDS এর মধ্যে আছে ইবুপ্রুকেন (এডডিল), এসপিরিন, ন্যাপ্রোক্সেন
সোডিয়াম (এলিড)। ওষুধ নানারূপে বডি, ক্যাপসুল, জেলক্যাপ, তরল ইত্যাদি। ব্যথা নিবারক ওষুধের নিরপদ
হওয়ার ব্যাপারটা রোগীর বয়সের ওপরও নির্ভর করে।
বছর কয়েক আগে পিতা-মাতারা জ্বরের জন্য বাচ্চাদের দিয়ে
দিতেন বেবি এসপিরিন কিন্তু
পরে জানা গেল রেইস
সিনড্রোম। এসপিরিনের বিষময় ফলে গুরুত্বর অসুখ যা মগজ, কিডনি ও যকৃতের ওপর প্রভাব ফেলে। এসপিরিন বাচ্চাদের অবশ্যই অবশ্যই দেওয়া উচিত নয়। নিষেধ। জ্বর হলে এসিটোএমিনোকেন বা
ইবুপ্রুফেন মাত্রা অনুযায়ী
দেওয়া যেতে পারে। বড়োরাও
সতর্ক হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হতে পারে।
অ্যালকোহল ও ব্যথার ওষুধ
এ দুটো একত্রে সেবন বেজায় বিপজ্জনক। ব্যথার ওষুধ
প্রভাব ফেলে রক্তচাপের ওপর। কোনো কোনো ব্যথার ওষুধ কোনো
কোনো উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের
সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে। যাদের
আগে রক্তচাপ জানা নেই তাদের রক্তচাপ জেনে নিতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ যারা
খান তারা নিয়মিত রক্তচাপ
মাপিয়ে দেখবেন এবং কোনো
ব্যথার ওষুধ প্রয়োজনে নেওয়া সঠিক হবে তা ডাক্তারের কাছে জেনে নেওয়া
ভালো হবে।
পাকস্থলী সহ্য না-ও করতে পারে
কোনো কোনো ব্যথার ওষুধ যেমন ইবুপ্রুফেন ও নেপ্রোক্সেন
সোডিয়াম পাকস্থলীর জন্য
ক্ষতিকর হতে পারে। পাকস্থলীর আস্তরণে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ
ঘটাতে পারে। অথবা কারো আলসার থাকলে তা প্রকট ও
প্রবল আকার ধারণ করতে পারে। তাই তেমন ওষুধ খেতে হলে সবচেয়ে কম মাত্রার ও কম সময়ের জন্য নেওয়া যায় ও ভরাপেটে। প্রতিদিন প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেবন করা উচিত।
ব্যথানাশক কিডনিকে
ভারাক্রান্ত করতে পারে
কিডনি দুটো কঠোর শ্রম করে। বর্জ্য নিষ্কাশন করে এবং তরল ও ইলেকট্রোলোহার ভারসাম্য
রক্ষা করে। এনএসএ আই.ডি এই কাজে বাঁধা দিতে পারে। এসব
ওষুধ নিয়মিত খেলে কিডনির
ক্ষতি হতে পারে, বড়ো ক্ষতিও হতে পারে। ক্রনিক কিডনি রোগ থাকলে এনএসএআইডি খাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কিডনিবান্ধব বিকল্প ওষুধও আছে।
হূদ্যন্ত্রের অবস্থা কেমন
ওটিসি ব্যথা নামক হূদেরাগীদের জন্য হতে পারে দু’দিকে ধার তলোয়ারের মতো। প্রতিদিন কম মাত্রা এসপিরিন রক্তকে তরল রেখে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক কিছুটা প্রতিরোধ করতে পারে। আবার দীর্ঘদিন এসপিরিন নয় এমন NSAID ব্যবহারে, বিশেষ করে উঁচু মাত্রায় এসপিরিনের রক্ত তরল করার ক্ষমতা খর্ব হতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে,
তেমনি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যাদের কিডনি, হূদেরাগ ও সিরোসিস আছে তাদের এসব ব্যথানাশক বারণ।
প্রথমে ওষুধের ওপরে লেখা
লেবেল পড়ে নিন, তাহলে ভুল কম হবে।
ব্যথানাশক ও যকৃত্
অ্যাসিটোএমিনোফেন জাতীয়
ওষুধ নির্দেশমতো সেবন করলে নিরাপদ ও কার্যকর থাকা যায়। তবে সব ওষুধেরই ঝুঁকি আছে। অ্যাসিটোএমিনোফেন ব্যথানাশকে কাজ করে বেশ ভালো, তবে যকৃতের ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত
মাত্রায় খেলে লিভারের বড়ো ক্ষতি
হতে পারে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায়ও ব্যথার উপশম
গর্ভবতী হলে যা-ই গ্রহণ করা হয়
তা চলে যায় অনাগত সন্তানের কাছে। গর্ভের তৃতীয় মাসে NSAIDS দেয়া ভালো নয়। ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথার ওষুধ দেয়া ভালো। পরস্পর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই ব্যথানাশক ওষুধ সব ওষুধের সঙ্গে চলে না। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
nঅধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা