রাজশাহীতে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কর্মহীনরা। রবিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার মুশরইল নতুনপাড়ায় কয়েকশো নারী-পুরুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এদের অধিকাংশ দিনমজুর ও শ্রমিক বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, সরকার ১০ কেজি করে চাল বিক্রি করছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চাল-ডাল বিতরণ করলেও এখন পর্যন্ত ওই এলাকার কোনো মানুষ সরকারি সুবিধা পায়নি। ফলে না খেয়ে দিন পার করছেন ওই এখানকার মানুষ।
জানা গেছে, মুশরইল নতুনপাড়া গ্রামে প্রায় সাড়ে তিনশো হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে ১৮০ জনের আইডি কার্ড দেখে তালিকা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। কিন্তু তারপরেও তাদের কোনো রকম সহযোগিতা করা হয়নি।
স্থানীয় আসাদুল ইসলাম বলেন, এলাকাটি পারিলা ইউনিয়নের মধ্যে। ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভুলু ওই এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের কাছে ত্রাণের দাবিতে এলাকাবাসী গেলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে অসন্তোষের সৃষ্টি হলে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।
তিনি বলেন, ওই এলাকার কর্মহীন মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা দিন এনে দিন খেয়ে এতদিন জীবনযাপন করছিলেন, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। তারা সরকারি সহযোগিতা না পেলে না খেয়ে মারা যাবেন বলে দাবি করেন আসাদুল ইসলাম।
আরো পড়ুন: রাজৈরে করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
এদিকে, বিক্ষোভের খবর পেয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় পুলিশ মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ জানান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানান চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মনির।
তিনি বলেন, সরকারি ত্রাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে। এলাকাবাসী একজোট হয়ে বিক্ষোভের সময় তারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করেন। পুলিশ গিয়ে তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মাইকিং করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিকে নিয়ে আসে।
ইত্তেফাক/এএএম