গোপালগঞ্জে জুয়ার আসরে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আজর ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের বণগ্রামের পশ্চিমপাড়া ও মধ্যপাড়ার মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আজর ফকির বণগ্রাম পশ্চিমপাড়ার মৃত হামেদ ফকিরের ছেলে। এ সময় সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ও ৯ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এরপর পুলিশ ১৮-২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত ২ পুলিশ কনস্টেবলসহ ১০ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বণগ্রাম বিলের মধ্যে মাসুম মোল্লার পুকুরপাড়ে বণগ্রাম মধ্যপাড়ার কতিপয় যুবক জুয়ার আসর বসিয়েছে। এখানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িরা এসে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলেন। রবিবার বিকালে পশ্চিমপাড়ার যুবকরা জুয়ার আসর বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে জুয়ার আসরে উপস্থিত জুয়াড়ি ও জুয়ার আসরের সঙ্গে সম্পৃক্তদের পশ্চিমপাড়ার লোকজন লাঞ্ছিত করে। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দু’পাড়ার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে বণগ্রাম পশ্চিমপাড়া ও মধ্যপাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে আজর ফকির ঘটনাস্থলে নিহত হয়। আহত হয় ৯ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২৫ জন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইাসলাম বলেন, দু’গ্রুপের ইটপাটকেলের আঘাতে আমিসহ থানার ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত ২ কনস্টেবলকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন: বাকেরগঞ্জে এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত, এলাকা লকডাউন
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসপি সার্কেল মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, জুয়াখেলাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পেয়েছি। এ ব্যাপারে আরো খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএএম