সিরাজগঞ্জে তাঁত শ্রমিকদের পাশে তামাই ক্লাব

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তাঁত কারখানাগুলো। এতে বিপাকে পড়েছেন এই শিল্পের ওপর নির্ভর করা হাজার শ্রমিক। কাজ না থাকায় টানাপোড়নের সংসারে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

বিশেষ করে দিনমজুরদের সমস্যা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহাজাদপুরসহ বিভিন্ন তাঁত পল্লীতে করোনার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় না খেয়ে বা কখনো একবেলা খেয়ে দিন যাচ্ছে তামাই গ্রামের শ্রমিকদের।

সরকারি ও কারখানার মালিকদের ত্রাণ সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি তাদের ঘরে। শ্রমিকদের অসহায়ত্ব ও দুর্দিনে তিন হাজার অসহায় তাঁত শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তামাই ক্লাব লিমিটেডের এক ঝাঁক তরুণেরা।

গত রবিবার ও সোমবার রাতে নিজেরাই প্যাকেট করে খাদ্য দ্রব্য পৌঁছে দিয়েছেন সেই অভুক্ত মানুষের কাছে। তামাই ক্লাব লিমিটেডের সৌজন্যে তিন হাজার পরিবারের অন্তত পাঁচ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি প্যাকেটে রয়েছে- আট কেজি করে চাল, এক কেজি করে ডাল, এক লিটার করে তেল, এক কেজি করে পেঁয়াজ, এক কেজি লবণ ও একটি করে সাবান।

এ প্রসঙ্গে তামাই ক্লাব লিমিটেডের আহবায়ক রিশাদ মোর্শেদ বলেন, আমরা বন্ধুরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক অভুক্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজে আরো অনেক বিত্তশালী সম্পদশালী লোক আছেন, তারাও যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে মানুষগুলো অন্তত ডাল, ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন। আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে যতটুক সম্ভব এ সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাব।

তবে ত্রাণ বিতরণেও একটু ভিন্নতা এনেছেন ওই যুবকেরা। সবাই যখন ত্রাণ বিতরণের সময় ফোটোসেশন ব্যস্ত থাকেন, সেখানে এ যুবকরা যাদের হাতে ত্রাণ দিয়েছেন, তাদের কারো ছবি তোলেননি। যাদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করেই কারো ছবি তোলেননি তারা।

ইত্তেফাক/আরএ