জুতা সেলাই বা সেলুনে কাজ করে দিন আনে দিন খায়, সমাজে এমন পিছিয়ে পড়া মানুষেরা চলমান লকডাউনে সবচেয়ে অভাবে রয়েছে। মাদারগঞ্জে এমন প্রায় দুইশত কর্মহীন অসহায় মানুষের কাছে বুধবার মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিয়েছেন পৌর মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। তার এই সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সেলুন কর্মচারী বিশ্বনাথ শীল, 'মেয়র সাহেব আমাদের কথা স্মরণ রাখছে, এতেই অনেক খুশি।'
সমাজে পিছিয়ে পড়া রবিদাস ও নরসুন্দর পরিবারের সদস্য তারা। সমাজে তাদের যেন অন্য কোথাও ঠাই নেই। এই ভয়াবহ করেনায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, দোকানের সার্টার বন্ধের সাথে সাথে তাদের চুলাও বন্ধ। নাই রোজগার, হাতে টাকা পয়সার বড় অভাব। এই সব মানুষ 'সামাজিক দূরত্ব' মেনে জড়ো হয়েছিলো বালিজুড়ি বাজারে মানবিক সাহায্য নেয়ার জন্য। জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ভাবে তার নিজ বাড়িতে এই মানবিক সাহায্য প্রদান করেন।
এই সাহায্য নিতে আসা সেলুন কর্মচারী বিশ্বনাথ শীল, নিরঞ্জন শীল, সুমন শীল জানান, মাদারগঞ্জ সদরের বালিজুড়ি বাজারের সেলুনে কাজ করে তাদের জীবিকা চলে। তারা বলেন, করোনার কারণে সেলুন বন্ধ। দিন আনি দিন খাই। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সমস্যায় ছিলাম। কেও দেখে নাই। আজ মেয়র সাহেবের সাহায্য পেয়ে আমরা খুশি। কেও খোঁজ না নিলেও তিনি আমাদের কথা স্মরণ করেছেন।
পৌর এলাকার জোনাইল বাজারের পাশে রবিদাস পাড়া। তাদের প্রধান পেশা জুতা মেরামত এবং মরে যাওয়া গরুর চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা। এখন অনেকে পৈত্রিক এই পেশায় নেই। কেউ হয়ত সেলুনে কাজ করে, আবার পাহারাদারের কাজও করছে অনেকে। কৃষি কাজ ও ব্যবসায় অন্যরা তাদের নিতে চায় না। দোকানদারীও করতে পারে না। তাই এই করোনার কারণে তাদের রুজি রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তাদের কাছেও মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন মেয়র। তিনি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে মানবিক সাহায্য প্রদান করেন।
সাহায্য পেয়ে হীরা লাল রবিদাস, রাজমহল রবিদাস, নারায়ণ রবিদাস বলেন, কয়েকদিন ধরে হাতে টাকা নেই বাজার খাওয়া প্রায় বন্ধ, এমন সময় মেয়র সাব এগিয়ে এলেন, তার এই সাহায্য আমাদের অনেক বড় উপকার হয়েছে। এই সাহায্য দিয়ে পরিবার নিয়ে কয়েকদিন খেতে পারবো।
এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির জানান, সমাজে পিছিয়ে পড়া এই লোকদের খোঁজ নেওয়ার কেও নেই। করোনার এই লকডাউনে তারা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই নিজেই যা পারি তাই নিয়ে এগিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, পৌরসভায় বরাদ্দ পেলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য বা ত্রাণ প্রদান করা করা হবে।
মাদারগঞ্জ সেলুন মালিক সমিতির সভাপতি বাবু সুদর্শন চন্দ্র সরকার জানান, পৌর এলাকায় আমাদের কয়েক শ' সেলুন কর্মচারী রয়েছে, যারা পুরোপুরি কর্মহীন। বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। তারা মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না। লোক লজ্জার ভয়ে নীরবে অভাব সহ্য করছে। এমন সংকটকালে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য মেয়র সাহেবকে ধন্যবাদ।
ইত্তেফাক/আরএ