রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে একদিনেই পাঁচজনের করোনা পজিটিভ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। সংক্রমিতরা সবাই নারায়ণগঞ্জ ফেরত এবং পোশাক কারখানার কর্মী বলে জানা গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে এক নারী (২৪) রাজশাহীর মোহনপুরের হলিদাগাছির বসিন্দা। বাকি চার পুরুষের মধ্যে পাবনা ও বগুড়ার একজন করে এবং জয়পুরহাটের দুইজন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার রামেক পিসিআর ল্যাবে ৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
উল্লেখ্য, এনিয়ে রামেক ল্যাবে নয়জনের করোনা শনাক্ত হলো। এই ল্যাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
এর আগে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে এক রোগীর করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। কিন্তু ওই রোগীর বাড়ি রংপুরে। ফলে বগুড়া, পাবনা ও জয়পুরহাট জেলায় করোনা রোগীর সন্ধান মিললো এই প্রথম।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার হরিদাগাছী এলাকায় ওই নারীর বাড়ি। তার বয়স ২৪ বছর। সে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরেছেন গত ৯ এপ্রিল। কিন্তু তার শরীরে করোনা কোনো উপসর্গই প্রকাশিত হয়নি। সর্দিজ্বর বা কাশিও ছিল না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরায় তার নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, রামেক করোনা ল্যাবের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনদের পাঠানো হয়েছে। তারা নিজ এলাকায় লকডাউন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।
মোহনপুরের নারীর বাড়ি লকডাউন
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরিদাগাছী গ্রামের সংক্রমিত নারীর বাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানওয়ার হোসেন লকডাউন ঘোষণা করেছেন। মাইকিং করে এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। আপাতত বাড়ির আইসোলেশনে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে।
দুর্গাপুরে যুবক আটক
এদিকে হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় দুর্গাপুরে ঢাকা ফেরত মাহাতাব উদ্দিন নামের (৩৫) এক যুবককে আটক করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধা এই আদেশ দেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম