মৌলভীবাজার ৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর) আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্র সাবেক এমপি এম. নাসের রহমানের গাড়িসহ ৭টি গাড়ি ভাংচুর ও প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটে।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার বাহারমর্দনস্থ নিজ বাড়িতে প্রেস বিফ্রিং করে এ অভিযোগ করেন এম. নাসের রহমান। প্রেস বিফ্রিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টায় মৌলভীবাজার পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে ২য় তলায় মেয়রের অফিস কক্ষে কয়েক বস্তায় ব্যালট রয়েছে মর্মে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। এগুলো খুলে দেখানোর জন্য বলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমি পুলিশ সুপারকে মুঠোফোনে অবগত করেছিলাম পৌরসভায় কালো কয়েকটি বস্তায় ব্যালট পেপার আনা হয়েছে নৌকায় সিল মারার জন্য। আমি সেখানে যাচ্ছি তাই পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ জানাই। পুলিশ আসতে সময়ক্ষেপন করায় মেয়রের নির্দেশেই যুবলীগ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বস্তা ভর্তি ব্যালট সরিয়ে নেয়।'
তিনি জানান, 'প্রায় ৫০ হাজার ব্যালট নৌকা প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট বক্সে ঢুকানোর পরিকল্পনা হিসেবে এই কাজটি করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে রির্টানিং অফিসারকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে আমি সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন সদস্য না আসায় আমি পৌরসভা থেকে বের হয়ে আমার গাড়িতে উঠতে গেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা আমার গাড়ির ভেতর কালো টাকা রয়েছে বলে আমার গাড়িসহ সঙ্গে থাকা সাবেক পৌর মেয়র ফজলুল করিম ময়ূন ও সাবেক এমপি বেগম খালেদা রব্বানির গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে পুলিশের সামনেই সরকারদলীয় নৌকার কর্মী সমর্থকরা শহরে মিছিল করে সিলেট সড়কের পাশে (পশ্চিম বাজার মাছের আড়তের পশ্চিম পাশে) অবস্থিত ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ অরো ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে।'
তিনি বলেন, 'নৌকার কর্মী সমর্থক ও ক্যাডাররা এমন নারকিয় তান্ডবলীলা চালালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। উল্টো আমার নেতাকর্মীর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে শুধু শুক্রবার রাতদিনে প্রায় ২৫/৩০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ নানাভাবে নেতাকর্মীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আমার নিশ্চিত বিজয় দেখে এখন নানাভাবে এ বিজয় ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকারদলীয় লোকজন।'
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, 'ধানের শীষের প্রার্থী নাসের রহমান রাতে পৌরসভায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি তার দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে মিটিং করছিলেন।'
আরও পড়ুনঃ ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী আটক
মেয়র বলেন, ব্যালট তার অফিসে আসার কথা নয়, এটি প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে থাকার কথা। নাসের রহমানের গাড়ি ও অফিস ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের বিষয়টি অস্বীকার বলেন এটি বিএনপির পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা।
ইত্তেফাক/নূহু