সাংবাদিকের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জেলার বকশীগঞ্জে করোনা প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় পুলিশের ধাওয়ার আতঙ্কে পালাতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নঈম মিয়ার বাজারে ঘটনাটি ঘটে। এসময় মৃতের স্বজনরা হাসপাতালে এসে পুলিশকে দায়ি করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। ওই সময় বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ইত্তেফাক পত্রিকার বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা এম শাহীন আল আমীন ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়রের লোকজন ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পুলিশের ভয়ে পালানোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে কৃষক সিরাজুল ইসলাম। পরে ইউএনও আ.স. জামশেদ খোন্দকার তাকে এসিল্যান্ডের গাড়িতে করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এসময় সিরাজুলের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমায়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর এবং তার লোকজন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাহীন আল আমীনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং তার সহযোগীরা তাকে মারধোর করে। 

এ ব্যাপারে সাংবাদিক শাহীন এম আল আমীন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যই আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। পৌর মেয়র অতর্কিত আমার ওপর হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। তার সহযোগীরা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। 

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের মারধরের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, তাকে ছবি তুলতে নিষেধ করার পরও তিনি ছবি তুলেছিলেন। তাই ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। 
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী জানান, সিরাজুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এসি