এবার অনেকটা আড়ালে, অবহেলা ও অযত্নে বড় হয়ে উঠছে রাজশাহীর আম। মুকুল থেকে এখন গুটিতে রূপ নিয়েছে। গাছের ডালে ডালে দোল খাচ্ছে আমের থোকা। সাম্প্রতিক সঙ্কটময় সময়ে দোলাচলে দুলছে চাষীদের স্বপ্ন। তাদের আশঙ্কা, করোনার প্রভাব আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
নগরীর উপকণ্ঠে কিসমত কুখন্ডি এলাকার আমচাষী ও ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে আম বাগান ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসময়ে তারা বাগান পাহারা দিতেই ব্যস্ত থাকেন। আমের ক্ষতিকর পোকা দমনে কোনো কীটনাশক এখনও ব্যবহার করা হয়নি। চলমান সঙ্কটের কারণে বাগান পাহারা ও পরিচর্যার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
একই এলাকার আরেক আম ব্যবসায়ী নাসির বলেন, এবছরও অনেক আমের বাগান কিনেছেন। এমনটা চলতে থাকলে আমের কেনাবেচায় প্রভাব পড়বে। আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, এবার রাজশাহীতে প্রায় ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এসব জমির বাগান থেকে হেক্টর প্রতি ১০ থেকে ১২ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়ে থাকে। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে কমপক্ষে দুই হাজার ২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবার হেক্টরপ্রতি গড়ে ১১ থেকে ১২ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে অধিদপ্তর। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই মাসখানেক পরই বাজারে আম আসতে শুরু করবে।
ইত্তেফাক/এসি