পরকীয়া ও টাকার লোভে রাজশাহীতে সুখেন হত্যাকাণ্ড

রাজশাহীর বাগমারায় পরকীয়া ও টাকার লোভে সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি গৃহপরিচারিকা তাহমিনা খাতুনকে (৩৮) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার তাহমিনা ধামীন কামনগর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী। ওই নারী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে অবৈধ সম্পর্ক অর্থাৎ পরকীয়া ও টাকার লোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল সকাল ৬টার দিকে বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউপির ধামীন কামনগর গ্রামের একটি আম বাগানে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো শ্রী সুখেন কুমার সরকারের লাশ পাওয়া যায়। তিনি ওই গ্রামের গোবিন্দচন্দ্র সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় মৃতের ভাই বাগমারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: মক্কা-মদিনার মসজিদে রমজানেও উপস্থিতি স্থগিত

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ’র নির্দেশনায় বাগমারা থানা পুলিশ মামলা তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে গোপন সূত্রে রাজশাহীর সদর সার্কেল এএসপি সুমন দেবের নেতৃত্বে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামি তাহমিনা বেগমকে (৩৮) আটক করে। তাহমিনা দুই বছর ধরে সুখেনের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করছিল। এ সময় তাদের মধ্যে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। এছাড়া তাহমিনা পল্লব ওরফে পলাশ নামের প্রতিবেশীর বাসায়ও গৃহপরিচারিকার কাজ করত এবং তার সাথেও তাহমিনার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে সুখেন ও পল্লবের মধ্যে দ্বন্দ্বের চলছিল। এছাড়া সুখেন পল্লবের নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকা পেত, যা পল্লব দিচ্ছিল না। তাই পল্লব, তার প্রতিপক্ষ সুখেনকে রাতের বেলা ডেকে নিয়ে আসার জন্য তাহমিনাকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়। গত ১৮ এপ্রিল রাতে পল্লব কৌশলে তাহমিনাকে দিয়ে সুখেনকে আমবাগানে ডেকে আনে। তাহমিনার ডাকে সুখেন আমবাগানে আসলে সেখানে সুখেন ও পল্লবের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে পল্লব ও তাহমিনা গলায় লাইলনের রশি পেঁচিয়ে সুখেনকে হত্যা করে। এরপর লাশ আমগাছের নীচে ফেলে রেখে নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়।

এদিকে আদালতে জবানবন্দি শেষে আসামি তাহমিনাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর ইফতেখায়ের আলম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ