ঝুঁকি নিয়েও কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের কর্মককর্তারা

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনে একের পর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তার পরেও থেমে নেই কাজ। করোনাভীতি উপেক্ষা করেই কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এক জন কর্মকর্তা। করোনায় মারা গেছেন প্রশাসনের আরো এক কর্মচারী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসসুম, আব্দুল মতিন খান, ফারজানা আক্তার। নতুন করে গত সোমবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান মারুফ ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। তারা দুজনও আইসোলেশনে আছেন। করোনা পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে গত ১৬ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার বেতার যন্ত্রচালক মনজুর হোসেন। মৃত্যুর পর তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়।  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা বলেন, ইতিমধ্যে চার জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তার করোনা শনাক্ত হয়েছে। সকলেই মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে একের পর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরেও নিরলসভাবে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঢাকা থেকে দুই জন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। তারাও কাজ করছেন।

জানা গেছে, কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরোও কয়েক জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসনের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার এক কর্মচারীর মৃত্যু ও কর্মকর্তার আক্রান্ত হওয়ায় ঐ শাখার সকল স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে, লকডাউন করা হয়েছে প্রশাসনিক ভবনটি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা সংকট দেখা দিবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।