খুলনায় ঘরে থাকছে না মানুষ। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড়ো মোকাম হচ্ছে খুলনা মহানগরীর ‘বড়ো বাজার’। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বড়ো বাজারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে। লকডাউনের মধ্যেও মানুষের সেই ভিড় থেমে নেই। বড়ো বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের গিজগিজে ভিড়। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে, সরু রাস্তা দিয়ে চলছে গাদাগাদি অবস্থায় হাঁটাচলা, কেনাবেচায় ব্যস্ত মানুষ।
সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো যে কোনো বিষয় রয়েছে, তা সেখানে গিয়ে দেখলে বোঝার উপায় নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আগের মতোই রাস্তায় যানজট লেগেই রয়েছে। বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে ওয়েস্ট মেকড রোড, ভৈরব স্ট্যান্ড রোড, কালীবাড়ি রোড, কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোডের একাংশে যানজট লেগেই আছে।
যদিও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। প্রশাসন শক্ত হলেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়ো বাজারের এক জন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ঈদের বাজারের মতো ক্রেতারা বড়ো বাজারে আসছেন। বিক্রি-বাট্টাও ভালো। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী এমনকি দোকানমালিকরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই বেশিরভাগ মানুষের।’ নগরীর শেখপাড়া বাজারের এক জন ব্যবসায়ী বলেন, ‘মানুষ কী করবে, প্রয়োজনে তো তাদের বাজারে আসতে হবেই। প্রয়োজন আইন মানে না।’
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে বড়ো বাজারসহ নগরীর বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে লোকজনকে অযথা ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহন ছাড়া অন্য সবার ক্ষেত্রে খুলনা মহানগরী এলাকা থেকে প্রস্থান এবং আগমন বন্ধ রয়েছে। তার পরও যারা আইন মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসআই