পরিবারের অভাব অনটন দূর ও ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের জন্য সোনার হরিনের খোঁজে সৌদি আরবে গিয়ে ছিলেন আশরাফুল ইসলাম (৪৫)। মরনব্যাধি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আশরাফুল মারা যাওয়ায় পরিবারের স্বপ্ন নিভে গেছে।
আশরাফুলের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বামীর শোকে স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন (৩২) ও বাবাকে হারিয়ে দুই কন্যা মেগলা আক্তার (১৯) ও তাবাসুমন (৭) পাথর হয়ে গেছে। আশরাফুলের বৃদ্ধা মা আছিয়া বেগমের (৬০) কান্নায় চার পাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে। তিনি মুর্ছা গিয়ে বার বার বিলাপ করে বলছেন তোমরা আমার বুকের মানিক কলিজার ধন আশরাফুলকে এনে দাও। তাদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা যেন সবাই হারিয়ে ফেলছেন। পুরো গ্রাম জুড়ে বইছে শোকের মাতম। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের ঘুগী গ্রামে আশরাফুলের বাড়ি। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল মজিদ।
আজ বৃহস্পতিবার আশরাফুলের ভাই মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৯ বছর তিনি সৌদি আরবের মদিনা শরীফে আল হামরা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তার ন্যায় নিষ্ঠা ও সততার কারণে ফ্যাক্টরির মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রমিকদের কাছে অতি আপনজন ছিলেন। ২০১৮ সালে ছুটিতে সর্বশেষ বাড়ি এসেছিলেন আশরাফুল। সামনে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আগামী ২০ মে ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল তার। বাড়ি আসবে বলে কেনাকাটা করে সব কিছু ঠিক করে বাড়িতে ফোন করেছিলেন। সবাই অপেক্ষা করেছিলেন তিনি বাড়ি আসবেন। কিন্ত তার আর দেশে আসা হলো না। গত ১১ এপ্রিল আশরাফুলসহ ঐ কোম্পানির ৫জন শ্রমিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ৫জনের মধ্যে ৪ জন সুস্থ হলেও ১৮ এপ্রিল আশরাফুলের মৃত্যু হয়। গতকাল বুধবার কোম্পানির ফোরম্যান মো. সুমন মিয়া টেলিফোনে আশারাফুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বলে তার ভাই রফিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. সেলিম আল মামুন জানিয়েছেন।
এদিকে আশরাফুলের মৃত্যুর খবর বাড়িতে এসে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। শতশত লোকজন বাড়িতে ভিড় করছেন। সৌদি আরবের মদিনা শরীফে আল হামরা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মালিক পক্ষ তার পরিবারের সদস্যস্যের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন আশরাফুলের লাশ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। সৌদি আরবেই সরকারী নিয়মে লাশ দাফন করা হবে।
আশরাফুলের স্ত্রী শামীমা ইয়াসমিন ওকলেজ পড়ুয়া কন্যা মেগলা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কে নেবে আমাদের পরিবারের ভরন পোষনের দায়-দায়িত্ব। পরিবারের উপার্জনশীল একমাত্র আশরাফুলকে হারিয়ে তারা ভেঙ্গে পরেছেন। পরিবারের সার্বিক সহযোগিতার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সৌদি সরকার ও কোম্পানীর মালিক পক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি