খাদ্য সংকট নিরসনে ‘সবুজায়নে প্রতিধ্বনি’ 

মহামারী পরবর্তী সংকট ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে লক্ষে নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে নীলফামারীর ‘প্রতিধ্বনি’ সংগঠন। গ্রামীণ কৃষির সহায়তার পাশাপাশি শহরের জায়গাগুলোতে ছাদ কৃষি বা উঠোন কৃষির আওতায় আনতে  এবং শহরের প্রতিটি বাড়িকে যাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করা যায় সে লক্ষ্যেই কাজ করছে ‘প্রতিধ্বনি’। তারা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘সবুজায়নে প্রতিধ্বনি’।     

বর্তমানে এই সংগঠনটির লক্ষ্য নীলফামারী সদর, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, ঢাকার সাভার ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের প্রায় পাঁচ শতাধিক শহুরে পরিবারকে বীজ প্রদান করা ও ৬ষ্ঠ থেকে  ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কৃষি লোন দেয়া, হটলাইনের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক সেবা প্রদান করা, যেটি বাস্তবায়নে কাজ করছে একদল কৃষিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা। 

 

এসব কৃষি কর্মকতাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিধ্বনি'র একদল যুবক দেশে করোনা পরবতী সময়ে খাদ্য ঘাতটি দূর করতে কাজ করছে।

কর্মকর্তারা জানান, ঘরে ঘরে ছাদ কৃষি, উদ্যান কৃষি,উঠোন কৃষি ও অনলাইন কৃষি পরামর্শ এবং বিনামূল্যে বীজ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারলেই তারা খুশি।

প্রতিধ্বনির-এ প্রকল্পের অন্যতম পরিকল্পক মোঃ নিয়ামুল হোসেন ও জাহানুল হাবীব রুকু জানান, আমাদের পরিকল্পনা মূলত দীর্ঘস্থায়ী । আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে মোটিভেশন দেয়ার পাশাপাশি তাদের সবুজায়নেও উদ্ভুদ্ধ করে আসছি। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর গঠিত হওয়া এই সংগঠনটি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার ৬১ টি প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে তাদের মোটিভেশনাল কার্যক্রম, শুদ্ধ বাংলা ভাষা বিষয়ক কর্মশালা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে কাজ করেছে এবং এখনো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। 

এছাড়াও সবুজায়ন, অভাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার উপকরণ প্রদান, প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা সহায়তায়ও অবদান রাখছে তাদের সুযোগ অনুযায়ী। 

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মোঃ ফিরোজ সোহাগ। অন্যান্য পরিকল্পনায় যারা আছেন তারা হলেন কামরুল ইসলাম, লুতফুল আহসান লেমন,জাহানুল হাবীব রুকু, নিয়ামুল হোসেন, তানভীর হাসান নিয়ন,সাইফুর রহমান মিশু।সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠা সদস্য হলেন আহমেদ হোসাইন, শারমিন শিমু, সোনিয়া সূচনা দৃষ্টি,সাব্বির হোসেন।সংগঠনটি সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত উদ্দ্যোগে পরিচালিত যারা প্রধান হিসেবে মো: ফিরোজ সোহাগ কাজ করে যাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি