সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে নতুন আতঙ্ক যমুনার ভাঙন। ছয় কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি। হুমকির মুখে বিস্তৃর্ন এলাকা। এ অবস্থায় ভাঙন ঠেকাতে পাঁচিল, আড়কান্দি, ব্রাহ্মণগ্রামে প্রাথমিকভাবে বালু ভর্তি জিও টেক্স ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শনিবার চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচিল এলাকায় এ কাজের উদ্বোধন করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। তিনি এ ভাঙন পরিস্থিতির স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, গত প্রায় ১০ বছর ধরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার জুড়ে যমুনার পশ্চিম পাড়ে ভয়াবহ নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এজন্য এসব এলাকার হাজারও ঘরবাড়ি ও অসংখ্য আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসীর জোড়ালো দাবি থাকলেও সেরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি এখনো। গত বছর এক কিলোমিটার জুড়ে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলে কিছু এলাকা রক্ষা করলেও বাকি জায়গায় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের কবলে পড়ে।
আরও পড়ুন: করোনা সঙ্গে লড়ে বাড়ি ফিরলেন পুলিশ কনস্টেবল
কবির বিন আনোয়ার এ প্রতিনিধিকে জানান, যমুনার পশ্চিম তীরের গাইবান্ধা, বগুড়াসহ সিরাজগঞ্জের সব এলাকাতেই বর্তমান সরকার বাঁধ দিয়ে রক্ষা করেছে। শুধু এনায়েতপুরের এই এলাকাটি বাদ থাকায় ভাঙন বৃদ্ধির কারণে আমরা নিজেরাও আতঙ্কিত। এখানে ছয় কিলোমিটার কাজের জন্য প্রকল্প একনেকে রয়েছে। করোনা দুর্ভোগ না থাকলে ৭৯০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতো। তবে আগামী বন্যা মৌসুমে এই এলাকা যাতে ভাঙন মুক্ত থাকে সেজন্যই করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আমি জিও বস্তা ফেলানোর কাজ দেখতে এসেছি। আসা করছি স্থায়ী বাধটির কাজ দ্রুত অনুমোদন হলে তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ অঞ্চল ও গুরুত্বপুর্ন খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সহ পুরো এলাকাটি রক্ষা পাবে।
এদিকে ভাঙ্গনে আড়কান্দির আতঙ্কে থাকা ফজলুল হক ডনু ও ব্রাহ্মণগ্রামের খোরশেদ আলম সরকার জানান, আগামী বন্যা মৌসুমে যদি কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ না থাকে তাহলে এই চার কোটি টাকার কাজ কোনো ফলই দেবেনা।
ইত্তেফাক/এসি