করোনার সুযোগ নিতে পারবেন ট্রাম্প?

মহামারি করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রভাবশালী আর উন্নত যে দেশই হোক না কেন, করোনা ভাইরাস প্রভাব খাটিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তার ক্ষমতা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশ্বের বড়ো পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও নাকি পিছিয়ে যেতে পারে। এই সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা নেই। কেবল কংগ্রেসেরই আছে সেই ক্ষমতা।

করোনায় বিপদে ট্রাম্প : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছিলেন। দেশের বেকারত্বও তার আমলে কমেছে বলে তার দাবি। শক্তিশালী হয়েছে অর্থনীতিও। সেই শক্তিশালী অর্থনীতিকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। কিন্তু করোনা ভাইরাস তার সেই স্বপ্নকে যেন ধুলোয় মিশিয়ে দিল! সেই আশঙ্কা থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের সবকিছু বন্ধ করার বিপক্ষে। তিনি শুরু থেকেই করোনা ভাইরাসকে অবহেলার চোখে দেখে আসছেন। তার কিছু মন্তব্যও সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটিতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের প্রাণ গেছে, যার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই দায়ী করা হচ্ছে। তার জনপ্রিয়তা একেবারেই কমে গেছে। সম্প্রতি আটটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে তিনি মাইনাস ৮-এ আছেন। ফলে এখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেওয়াটা তার জন্য অশনিসংকেতের মতোই। তাই তো তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত করতে পারেন। কারণ ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের হানায় আলাস্কা, কানেকটিকাট, ডেলওয়ার, জর্জিয়া, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, লুইজিয়ানা, মেরিল্যান্ড, মন্টানা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, পুয়েত্রে রিকো, রোডে আইল্যান্ড, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও উইওমিংয়ে প্রাইমারি নির্বাচন স্থগিত আছে। এই অজুহাত দিয়ে ট্রাম্প সাধারণ নির্বাচনও স্থগিত করতে পারেন।

পারবেন না ট্রাম্প : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচন পেছাতে পারবেন না। মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া সিএনএনের এডিটর অ্যাট লার্জ ক্রিস সিললিজ্জার মতেও নির্বাচন পেছাতে অক্ষম প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলুন আর জো বাইডেন যে-ই বলুন না কেন, নির্বাচন পেছানো সম্ভব নয়। ক্রিস সিললিজ্জার মতে, প্রাইমারি নির্বাচন রাজ্যের বিষয়। সুবিধাজনক সময়ে রাজ্য সরকার এটা শেষ করতে পারবে। এর সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, সংবিধানে বলা আছে, নির্দিষ্ট বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি প্রত্যেক রাজ্য ও অঞ্চলের কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধিরা পরবর্তী বছরের ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসে কাজ শুরু করবেন।

সরকারের ক্ষমতা পৃথকীকরণের কারণে কংগ্রেস প্রণীত আইন বাতিল কিংবা সামান্য অবজ্ঞা করার ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টের নেই। কেবল কংগ্রেসই পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে এবং সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। কেউ হয়তো বলতে পারেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন এবং নির্বাচন স্থগিত করতে পারেন। তর্কের খাতিরে ধরা যাক যে পেলোসি সেটি করবেন। সেক্ষেত্রে তারা ২০২১ সালের মার্চের প্রথম মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিত করতে পারেন। তবে সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা জানা প্রয়োজন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের মেয়াদ নির্বাচনের পরবর্তী বছরের ২০ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হবে। আর জানুয়ারির তৃতীয় দিন সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ শেষ হবে। নতুন নির্বাচিতরা ঐ দিন দায়িত্ব নেবেন। কংগ্রেস কর্তৃক সংশোধিত না হলে এই ধারা বহাল থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হলে এবং নির্বাচন না হলে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কিছুদিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। পেলোসি দায়িত্ব না নিলে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সবচেয়ে বেশি দিন দায়িত্ব পালন করা সিনেটর প্রেসিডেন্ট হবেন। কিন্তু এর কোনোটাই বাস্তবে সম্ভব নয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা ভাইরাসের অজুহাত দিয়ে মার্শাল ল জারি করে নির্বাচন স্থগিত করতে পারেন। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকির ল স্কুলের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জোশ ডগলাসের মতে, ১৮৬৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায় ছিল, যাতে বলা হয়েছিল যে মার্শাল ল সংবিধান স্থগিত করতে পারবে না।