বাংলাদেশে পুরনো যে কয়টি গির্জা রয়েছে তার সংখ্যা হাতে গুনে বলে দেওয়া যায়। পর্যটক তাভারনিয়ার ও মানরিকের বর্ণনা মতে সবচেয়ে পুরনো গির্জাটি ১৬১২ সালে অগাস্টিয়ানদের নির্মিত। তবে সে গির্জার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি। দ্বিতীয় পুরনো গির্জাটি টলেন্টিনির সাধু নিকোলাস বা নাগরী গির্জা। যেটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নাগরী গ্রামে ১৬৬৩ সালে নির্মিত। গির্জাটি এ উপমহাদেশেরও অন্যতম প্রাচীনতম গির্জা। দ্বিতীয় সবচেয়ে পুরনো গির্জাটি তেজগাঁওর গির্জা। যেটি ১৬৭৭ সালে নির্মিত হয়। তেজগাঁও এবং টলেন্টিনির সাধু নিকোলাস গির্জা এ দু’টিই পর্তুগিজরা নির্মাণ করেছিলেন। মূলত, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পর্তুগিজদের এ দেশে আগমন ঘটলেও ইউরোপীয়দের মধ্যে তারাই প্রথম ধর্ম প্রচার শুরু করেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ও পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তায় সাধু নিকোলাস গির্জাটি নির্মাণ করেন। গির্জা এলাকায় বিশাল ২টি সমাধি এলাকা রয়েছে। পুরাতন গির্জাটির পাশেই বিশাল এলাকাজুড়ে আধুনিকভাবে নতুন গির্জা ভবন নির্মিত হয়েছে।
বর্তমান পুরনো ভবনটি ১৬৬৩ সালে নির্মিত কিনা তা নিয়ে রয়েছে মতান্তর। তবে সবচেয়ে প্রচলিত মত হচ্ছে ভবনটির স্থানে পূর্বে কাঠ-খড় দিয়ে নির্মিত একটি গির্জা ছিল। একদা তা আগুন ধরে পুরো গির্জা পুড়ে গেলে বর্তমান ভবনটি পুড়ে যাওয়া গির্জার স্থানে প্রতিস্থাপিত করা হয়। বর্তমান পাকা ভবনটি ১৮০০ সালের মাঝামাঝি কোনো এক সময় নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পর্তুগিজ ভাষায় বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও ডিকশনারি রচনাকারী পাদ্রী ম্যানুয়েল দ্যা অ্যাসুম্পসাও এই গির্জারই পাদ্রী ছিলেন এবং এ গির্জাতেই তিনি সে গ্রন্থ রচনার কাজ করেছিলেন।
যেভাবে যাবেন : নিজস্ব বাহন থাকলে রাজধানী ঢাকা থেকে ‘টলেন্টিনির সাধু নিকোলাসের গির্জা’ যেতে ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। ৩০০ ফিট থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ২০ মিনিট, তারপর বাইপাসে উঠে গাজীপুর মীরের বাজার দিকে ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে পানজোড়া মোড়ে যেতে হবে। সেখান থেকে সাধু নিকোলাসের গির্জা ১০ মিনিটের পথ।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের অধিকাংশই টলেন্টিনির সাধু নিকোলাসের গির্জাকে নাগরী গির্জা নামে চেনেন। দেখার তালিকায় ১৯০৬ সালে পানজোড়া গির্জা বা সাধু এন্টোনিস চার্চও রাখতে পারেন। কারণ টলেন্টিনির সাধু নিকোলাস গির্জা বা নাগরী গির্জার খুব কাছেই পানজোড়া গির্জা বা সাধু এন্টোনিস চার্চ। যেখানে প্রতি বছর সাধু আন্তুনির তীর্থোত্সব অনুষ্ঠিত হয়। তবে দর্শনার্থীদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।