জামালপুরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী একের পর এক নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এ জেলার স্বাস্থ্য সেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সারা জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৪৬জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ৬জন চিকিৎসকসহ মোট ১৮জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এখনো আক্রান্ত হননি, তাদের অধিকাংশ ভয়ে রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিতি ও সংকটের কারণে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে যেমন চলছে ডাক্তার শূন্য তেমনি করোনো আতংকে অনেকটাই রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ জেলার ৭টি উপজেলার সরকারি হাসপাতাল গুলোর মধ্যে ৪টি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, ব্রাদার্স, ওয়ার্ড বয়, বাবুর্চি, আয়া, ড্রাইভার ও এমএলএসএস আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল, বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল, ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতাল ও মাদারগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার , নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আক্রান্তরা হলেন : জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন সহকারী সার্জন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), একজন নার্স, দুজন ওয়ার্ডবয়, একজন এমএলএসএস, একজন ব্রাদার ও একজন বাবুর্চি। জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের একজন রেডিওলজিস্ট ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসক। বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের একজন নার্স ও একজন বাবুর্চি। ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক। মাদারগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন ড্রাইভার ও একজন আয়াসহ মোট ১৮জন।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মোট ৩০জন চিকিৎসক এবং ১৫জন স্বাস্থ্যকর্মী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. উত্তম কুমার সরকার। তিনি বলেন, হাসপাতালের যেসব চিকিৎক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তার মধ্যে ৩০ জন চিকিৎসক এবং ১৫জন স্বাস্থ্য কর্মী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এসব কোয়ারেন্টাইনে থাকা চিকিৎসকের নমুনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট যাদের নেগেটিভ এসেছে তার মধ্যে ১০ জন চিকিৎসক গত ২৬এপ্রিল রবিবার যোগদান করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে আউটডোরে গড়ে ৬০০ রোগী চিকিৎসানিত এখন রোগী আসছেন মাত্র ৩০ জন। ইনডোরে ৫০০ রোগীর মধ্যে এখন রোগি ভর্তি আছেন মাত্র ৫৪ জন। সরকারি নির্দেশ মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তিনি জানান, সব হাসপাতালেই জরুরি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যারা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসেনি তাদের দিয়ে বর্তমানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি