গোপালগঞ্জের কোটালীপাডায় হাসপাতাল কর্মীকে তালপাতার ঝুপড়িঘরে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসিন উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন কোটালীপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জাকারিয়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাকচী। আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল সেমাবার (২৭ এপ্রিল) নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে পুকুরের একটি নির্জন স্থানে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরী করে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখার খবর গণমাধ্যমে প্রচারের পরপরই প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। ঐদিন বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান পুলিশের সহযোগিতায় ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে পুকুরের ভিতরের ঝুপড়িঘর থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে হোমকোয়ারেন্টিনে রাখেন। ভেঙ্গে ফেলা হয় ঝুপড়িঘর।
আরও পড়ুনঃ বরিশালে ক্লিনিকের লিফটের নীচে মিললো চিকিৎসকের লাশ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তারা ওই স্বাস্থ্য কর্মীকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে যে, সে নিজের ইচ্ছায় ওই পুকুরের মধ্যে তালপাতার ঝুপড়িঘরে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এ ব্যাপারে কেউ তাকে বাধ্য করেনি। ওই স্বাস্থ্য কর্মীর পিতা নেই। তার আয়ের ওপরই তার মাকে নির্ভর করতে হয়। প্রভাবশালী মহলের চাপে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি এখন আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকুরি করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বন্ধ করে তাকে ছুটি দেয়। ছুটিতে তিনি গত ২১ এপ্রিল কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের লখন্ডা গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৪ শ’ মিটার দূরে একটি নির্জনস্থানে পুকুরের ভিতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে সেখানে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই নারী স্বাস্থ্যকমী সেখানে অবস্থান করেন। এটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গোটা উপজেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নিগৃহের শিকার ওই স্বাস্থ্য কর্মীকে দিয়ে সাদা কাগজে লিখে নেয়ার বিষয়টি জানতে তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্ত কমিটির প্রধান কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসিন উদ্দিন বলেন, আমরা তদন্তের কাজ শুরু করেছি। ৩ কার্য দিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অমানবিক এ ঘটনার তদন্তে আমি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া ওই স্বাস্থ্য কর্মীর গ্রামের ঘরটি জড়াজীর্ন । তাদের এ ঘরটি আমরা সংস্কার করে দেব।
ইত্তেফাক/ এমএএম