রোমাঞ্চ শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। শব্দটায় যেমন একটা বিপদের গন্ধ আছে, তেমনি আছে নতুন কিছু জয় করার আনন্দ! আর এই আনন্দ উপভোগ করতেই রোমাঞ্চপ্রেমীরা কতশত বিপদকে তুরি মেরে উড়িয়ে দিয়ে পাড়ি জমান উত্তাল সমুদ্রের বুকে কিংবা মেঘে ঢাকা পাহাড়ের উঁচু চূড়ায়। তবে রোমাঞ্চপ্রেমী যদি হন কোনো মেয়ে, তবে তা খানিকটা বিস্ময়করই বটে! কিন্তু এখন আমাদের দেশে এমন অনেক মেয়েই আছেন, যারা ভালোবাসেন রোমাঞ্চ, জয় করতে নিতে চান অদেখা ও নতুন কোনোকিছুকে। তেমনই একজন রোমাঞ্চপ্রেমী হলেন বগুড়া জেলার মিতু আকতার। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে সেন্টমার্টিনে পৌঁছে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে নেন ১৭ বছরের কিশোরী মিতু। রোমাঞ্চের প্রতি আকর্ষণ ও অদম্য ইচ্ছেশক্তিই মিতুর এই বিজয়ে সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। স্কুবা ডাইভার ও বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার প্রয়াত কাজী হামিদুল হকের হাত ধরে ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল বাংলা চ্যানেলের পথচলা। বাংলা চ্যানেল হল টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটারের একটি পানিপথ। ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতই এর আয়োজন করা হতে থাকে। তারই ধারাবাহিতায় গত ১৯ মার্চ প্রয়াত কাজী হামিদুল হকের স্মরণে ‘বাংলা চ্যানেল সুইমিং-২০১৮’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১৪ বছর বয়সী থেকে ৬৬ বছর বয়সী সাঁতারু। অংশগ্রহণকারী মোট ২৮ জন সাঁতারুর মধ্যে ১৮ জন সফলভাবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সক্ষম হন।
মিতু স্বপ্ন দেখেন, বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাবেন।