করোনাকালে অনেকাংশেই বদলে গেছে আমাদের জীবনধারা। সেইসঙ্গে চলছে মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র রমজান। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কিছুটা সংযমের সঙ্গে জীবনযাপন করা প্রয়োজন। যেন ভবিষ্যতে খুব খারাপ সময় এলেও আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারি। এমন সংকটময় সময়ে কীভাবে হিসেবি হওয়া যায় এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ নিয়েই এবারের আয়োজন। লিখেছেন রাকীবা ঐশী
খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা
এতদিন যখন যা ইচ্ছা—খেয়ে অভ্যস্ত হলেও এই সময়ে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেইসঙ্গে খাবারের পেছনে সপ্তাহে কত টাকা ব্যয় করবেন সেটি ঠিক করে ফেলুন। এক্ষেত্রে শিশুদের ঘরোয়া পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করতে হবে। যাদের জমি এতদিন ধরে পড়ে আছে তারা কৃষিকাজে বিনিয়োগ করুন। মনে রাখবেন, খাদ্যসংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিকল্প নেই।
মেনে চলুন নির্দিষ্ট বাজেট
এমন সময়েও অনেকেই ভাবছি না যে— প্রতিদিনের খরচ মেটানো দুঃসাধ্য হয়ে যেতে পারে! তাই দীর্ঘমেয়াদী খরচের পরিকল্পনা করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে যেন কড়াভাবে সেই বাজেট মেনে চলা হয়। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট খরচে চলার বিষয়টি বাড়ির শিশুদেরও বুঝিয়ে বলতে হবে।
গঠন করুন জরুরি ফান্ড
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে বাধ্য হয়ে লকডাউন করতে হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আর এলাকা। ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থার সম্ভাবনা দেখে দিলে ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করে রাখা ভালো। তাই এখন যতটুকু না হলেই নয়, ততটুকু খরচের পাশাপাশি সঞ্চয়ে মনোযোগ দিতে হবে। এতে পরবর্তী সময়ে ধার করার প্রয়োজন হবে না।
ঋণ পরিশোধ করুন
চলতি সময়টাতে আমরা ভিন্নরকম এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আর এমন বাস্তবতায় ঋণ মানেই বিশেষ এক বোঝা। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দায় ঋণ শোধ করা হবে অতিরিক্ত চাপের। তাই সময় সুযোগ থাকতেই সব ঋণ পরিশোধ করে ফেলুন।
পরিবর্তন আনুন ধীরে
একথা সত্য যে, একটি নির্দিষ্ট জীনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে শুরুতেই বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না। তাই ভাবনা চিন্তা করে পরিকল্পনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে খরচ কমাতে হবে। যেমন আপনার যদি সপ্তাহে তিন দিন বাইরে খাওয়ার অভ্যাস থাকে সেটিকে এক দিন এক দিন করে কমাতে কমাতে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনুন। যদি প্রতিমাসেই শপিং করার অভ্যাস থাকে সেটিকে শুধুই উত্সবকেন্দ্রিক করে ফেলুন। এভাবে যার যার জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তন আনুন। একবারে বদলে ফেললে সেটা বেশি মানসিক চাপের হয়ে যাবে। তাই ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন।
এছাড়া আপনাকে আরও কিছু পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে তৈরি হতে হবে। যেমন ছোট বাসায় উঠতে হতে পারে। সাবলেট দিয়ে ভাড়া ভাগাভাগি করতে হতে পারে। সবকিছুর জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন। মনে রাখবেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই পারে সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা দিতে।