প্রথম মাসেই স্বাস্থ্যসেবীদের ১৯ হাজার ফ্রি রাইড দিল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’

করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে যাতায়াত সহজ করতে ডিবিএল ফার্মার পৃষ্ঠপোষকতায় গত ১ এপ্রিল রাজধানীতে যাত্রা শুরু করেছিল ‘ক্র্যাক প্লাটুন পরিবহন’। প্রথমে চল্লিশটি ছোট-বড় গাড়ি ও দশটি মিনিবাসের বহর নিয়ে প্রতিদিন ১৬টি রুটে তিনবেলা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিনামূল্যে এই সেবা শুরু হয়। এরপর থেকে গত এক মাসে দৈনিক ২২টি রুটে তিন শিফটে শতাধিক হাসপাতালে ৪ হাজার ৫০০ টিরও বেশি ট্রিপ সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। এই সময় প্রায় ১ হাজার ৮০০ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী যাতায়াত সেবা নিতে প্রায় ২০ হাজার বার ক্র্যাকপ্লাটুনের ওয়েব সাইটে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

করোনার বিস্তার রোধে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গন-পরিবহন বন্ধ ঘোষণা হলে অনেক চিকিৎসককেই যাতায়াত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় - যা করোনা মোকাবেলায় অন্যান্য সীমাবদ্ধতার সাথে বাড়তি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয়। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও শক্তিশালী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন মহল থেকে নেয়া হলেও যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি অনেকটা উপেক্ষিতই থেকে যায়। সেক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ডিবিএল ফার্মার অর্থায়নে ক্র্যাক প্লাটুন পরিবহন সেবা  নিয়ে এগিয়ে আসে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংগঠন দ্যা আর্থ সোসাইটি।

দুর্যোগকালীন সময়ে এমন সেবাদানের জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্র্যাক প্লাটুন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যাদের ব্যক্তিগত বাহন নেই কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাদের যানবাহনের যোগান অপ্রতুল তারাই ক্র্যাক প্লাটুনের এই সেবা নিতে আগ্রহী হয়েছেন। এর বাইরেও হাসপাতালের গাড়ীতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সীমাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কিত কিংবা ফাঁকা রাস্তায় সন্ধ্যার পর চলাচল করতে একা চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এমন নারী চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য-কর্মীরাও এই সেবায় স্বস্তি পাচ্ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারির সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হক মাসুম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সহকর্মীদের অনেকেরই ব্যক্তিগত বাহন নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিআরটিসির সেবা সীমিত আকারে থাকলেও সব হাসপাতাল বা সবার জন্য সার্বিক কোন ব্যবস্থা নেই। ডিবিএল ফার্মাকে ধন্যবাদ অত্যন্ত সময়োপযোগী এই সেবার জন্য।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে কর্মরত সাদিয়া আহমেদ বলেন, একজন মেয়ে হিসেবে রাতের বেলা বেড়িবাঁধ থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে ডিউটি করা প্রায় অসম্ভব ছিল। আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ, আল্লাহ আপনাদের প্রচেষ্টাকে সফল করুন।

সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংগঠন দ্যা আর্থ সোসাইটি সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদেকুল আরেফীন বলেন “যাত্রী ও চালক উভয়েরই সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা আমাদের কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্যানিটাইজেশনের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক জোর দেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডিবিএল ফার্মা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসায় প্রতিটি গাড়ীতে সামাজিক দূরত্ব মেনে আসন বণ্টনের জন্য যাত্রীসংখ্যার কয়েকগুণ যানবাহন বরাদ্দ করা সম্ভব হয়েছে।”


গত ৩১ মার্চ পাইলটিং ও অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। নির্ধারিত শিফট বা রুটের বাইরেও জরুরী প্রয়োজনে অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। শুরুতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের লকডাউনকে মাথায় রেখে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হলেও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি ক্র্যাক-প্লাটুনের সেবার মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি