উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগে কোভিড-১৯ সংক্রমণ

বিশ্ব জুড়ে  সংক্রমিত করোনা বা কোভিড-১৯ সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থ ভান্ডার বা পারমাণবিক অস্ত্র কোনো কিছুই একটি ক্ষুদ্র ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারেনি। তাই এ ভাইরাসকে প্রতিহত করাই এখন উত্তম। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে  (যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, চোখ/নাক/মুখ স্পর্শ না করা ইত্যাদি) আমরা এই ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারি। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হূদেরাগ (ইসকেমিক বা ফেইলর) রয়েছে তাদের এইসব রোগ জটিল হতে পারে। আবার নতুন করেও উচ্চ রক্তচাপ, হূদ্যন্ত্রের প্রদাহ, ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ (অক্সিজেন স্বল্পতা), হার্ট ফেইলর কিংবা অনিয়ন্ত্রিত হূত্স্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া হতে পারে। যারা উচ্চ রক্ত চাপের রোগী তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগী  কোভিড ১৯-এ সংক্রমণের পর PCR পজিটিভ হলে কিছু ওষুধ চিকিত্সকের পরামর্শক্রমে পরিবর্তন করতে হবে।

রোগীদের করণীয় :

১. উচ্চ রক্তচাপ অথবা হূদেরাগের ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

২. ফোন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বীয় চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

৩. কমপক্ষে ১৫ দিনের ওষুধ বাড়িতে মজুত রাখতে হবে।

৪. সবসময় বাড়িতে থাকতে হবে, সর্ব অবস্থায় দৈহিক/সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে।

৫. করোনা প্রতিরোধের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

৬. মানসিক দুশ্চিন্তা পরিহারের জন্য টিভি, ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যবহার বা লেখালেখি করা যেতে পারে।

৭. বাড়িতেই রক্তচাপ মাপার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. স্বীয় ধর্মীয় নিয়মনীতি পালন করতে হবে।

শেষকথা-

উচ্চ রক্তচাপ বা হূদেরাগীদের সমস্যা ‘কোভিড’-১৯ সংক্রমণের জন্য বেড়ে যেতে পারে, আবার নতুন করেও হতে পারে। তাই এই সংক্রমণ প্রতিহত করতে হবে। বাড়িতে অবস্থান করে নিয়ম মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিরোধই উত্তম পদ্ধতি।

nঅধ্যাপক ডা. লিয়াকত হোসেন তপন

অধ্যক্ষ, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, গোপালগঞ্জ

চেম্বার: মেডিনোভা মেডিক্যাল

সার্ভিসেস লি:উত্তরা শাখা, ঢাকা