আজ ৪২ দিন ধরে নিজে রান্না করে প্রতিদিন তিন শত মানুষকে খাওয়াচ্ছেন জামিউল ইসলাম মারুফ। গত ৩০ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের রাতের খাবারের ও ইফতারের ব্যবস্থা করেছেন মারুফ।
এছাড়াও করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ২৫০টি অসহায় মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থ (বিকাশের মাধ্যমে) ও চাল, ডাল, ডিম, পেঁয়াজ, তেল, আলু প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী সরবরাহ করেছেন তিনি।
এখন প্রতিদিন পান্থপথে এই ইফতার দেওয়া হচ্ছে। আগে বিভিন্ন জায়গায় খাবার বিতরণ করা হতো। ইফতারে দেয়া হচ্ছে খেজুর, আপেল পাতলা সবজি খিচুড়ি আর ডিম। এ চরম অসহায় মানুষদের নিজে রান্না করে প্রতিদিন খাওয়াচ্ছেন মারুফ।
শুরুটা হয়েছিল গত ২৬ মার্চ। নিজের বানানো হ্যান্ড স্যানিটাইজার শ্রমজীবী ও হতদরিদ্র মানুষদের হাতে তুলে আদিতে গিয়ে উপলব্ধি করেন তাদের সুরক্ষা সামগ্রীর চেয়ে খাবারের বেশি প্রয়োজন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন চলছে সাধারণ ছুটি। এই দীর্ঘ ছুটির ফলে রাজধানীর সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন প্রতিদিন অন্তত রাতের খাবারে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে ভালো হয় এই হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য। অন্তত রাতে কাউকে যেনো ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে ঘুমাতে না হয় এটুকু নিশ্চিত করতে চান মারুফ।
মারুফ বলেন, ‘গত ৩০ মার্চ দুপুরে বাজার করে রাতে নিজেই রান্না করে ৪০ জন মানুষের খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। শুরুতে দিয়েছিলেন ভাত, সবজি, ডিম। রাতে খাবার বিতরণ করতে গিয়ে দেখেন প্রায় ১০০ জন মানুষ খাবারের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শুরুতে ৪০ জনের ব্যবস্থা থাকলেও দিন দিন খাবারের পরিমাণ বাড়তে থাকে। বর্তমানে ৩০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবার নেওয়ার তালিকাটাও দিন দিন বড় হচ্ছে।
গত ৪২ দিন ধরে নিজেই রান্না করেন, প্যাকেট করেন এবং বিতরণ করেন তিনি। এ কাজে সাহায্য করছেন তার সহধর্মিণী ফারিয়া ফারিয়েল। এখন দুজন শ্রমিক নিয়ে কাজের পাশাপাশি খাবার প্যাকেট করার জন্য তবে বিতরণের কাজটা তিনি নিজেই করেন। অসহায় মানুষের পাশে খাবার নিয়ে দাঁড়ানোর কাজে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।
আরো পড়ুন: নওগাঁয় করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৯ জন
তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া সমাজের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছে যাদের সামাজিক মান সম্মানের বিষয়টি চিন্তা করে লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নেওয়া সম্ভব হয় না। এমন ২৫০ টি অসহায় মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থ (বিকাশের মাধ্যমে) ও চাল, ডাল, ডিম, পিঁয়াজ, তেল, আলু প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী সরবরাহ কথা বলেন মারুফ। গ্রীন রোড, পান্থপথ, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, নিউমার্কেট, আজিমপুর, ধানমন্ডি এলাকা সমূহতে তাদের পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সারাদিন রোজা রাখার পর অন্তত ইফতারিতে সামান্য কিছু খাবার তাদের মুখে তুলে দিতে চাই মারুফ । তিনি বলেন, ‘এই অসহায় হতদরিদ্র ভাসমান মানুষগুলোর একবেলা খাওয়ানোর জন্য কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চান। তাহলে ইনবক্স করতে পারেন (facebook.com/zamiulislammaruf) এই আইডিতে অথবা (বিকাশ নম্বর- ০১৭১৬৫৬৮২৮৩ পার্সোনাল)।
এই প্রক্রিয়া চলমান। আপনার এ সময়ে একটু সাহায্যে একবেলা খেতে পারবে এই অসহায় মানুষগুলো। জরুরি প্রয়োজনে-০১৬৭৮৬৬০৮১৫ (মারুফ)।
ইত্তেফাক/এএএম