সবুজ বাড়ি বলতে আপনার মাথায় আসবে সবুজের আচ্ছাদনে ঘেরা পুরো একটি বাড়ি। ঠিক তেমন না হলেও পরিবেশবান্ধব এমন অসাধারণ টেকসই ও ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে এমন ১৮ টি স্থাপনা। সাধারণভাবেই কোন ভবনের আকার বা আকৃতি বাড়ানোর নানা উপায় থাকে, কিন্তু এই বাড় গুলোর উচ্চতার দিক থেকে বা স্থাপনা শৈলীর তুলনা করলে তারা সম্পূর্ণ আলাদা।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে পরিবেশগত প্রভাব ডিজাইন, নির্মাণ এবং পরিচালনা উপর ভিত্তি করে বিল্ডিংগুলোর সবুজায়নের দিকে আরও বেশি করে জোর দেওয়া হচ্ছে। পৃথিবী দিবস উপলক্ষে, তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরণের ৬ টি উল্লেখযোগ্য ভবনের কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।
পিক্সেল বিল্ডিং (মেলবোর্ন,অস্ট্রেলিয়া)
বিল্ডিংটির কার্যক্রম শুরু হয়: ২০১০ সালে
বিভিন্ন অফিসের কাজে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে “ডেসিবেল আর্কিটেকচার”
এক দশক আগে এটি যখন খোলা হয়েছিল, পিক্সেল বিল্ডিংটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ ভবন ছিল, সাইটে সাইটে নিজস্ব শক্তি এবং পানি উত্তোলন করে থাকে। রঙ্গিন নজরকাড়া প্যানেল যেগুলি পুরো ভবনটিকে ছায়ায় আবৃত করে রাখে এবং প্রয়োজনে দিনের বেলা অধিক আলো সরবরাহ করে, বৃষ্টির পানি ধরে রাখে এমন একটি ছাদ আছে ভবনটিতে। এছাড়াও রয়েছে বায়ু টারবাইন যা ভবনটিতে প্রাকৃতিক বাতাস সঞ্চালনে সাহায্য করে।
সেন্ট্রাল পার্ক (সিডনি,অস্ট্রেলিয়া)
বিল্ডিংটির কার্যক্রম শুরু হয়: ২০১৪ সালে
আবাসিক ভবনে হিসেবে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে “এটেলিয়ার্স জিন নুভেল এবং পি টি ডাব্লু আর্কিটেক্টস”
সৃজনশীল এই শহরে সবুজায়ন দেখতে চাইলে সিডনি অপেরা হাউসের পাশাপাশি ওয়ান সেন্ট্রাল পার্ক ভবনটি আপনাকে নিয়ে সবুজের সমারোহে । আর্চডেই ডটকম জানিয়েছে, বিল্ডিংয়ের পাদদেশে পার্কটি আক্ষরিকভাবে সবুজায়ন কে অব্যাহত রেখেছে, কারণ প্রায় ২৫০ প্রজাতির অস্ট্রেলিয়ান ফুল সহ বিভিন্ন গাছপালা ওয়ান সেন্ট্রাল পার্ককে ঢেকে রেখেছে, যার সৌন্দর্য অনস্বীকার্য ।
দুটি আন্তঃসংযুক্ত টাওয়ার নিয়ে গঠিত সেন্ট্রাল পার্কের সামনের দিকে ভবন টির শরীরে লম্বভাবে বাগান রয়েছে। লম্বা টাওয়ারের “হোভারিং ক্যান্টিলিভারটি” এই আশ্চর্য ডিজাইনের জন্য এত বড় আকারের প্রচলিত অন্যান্য বিল্ডিংয়ের তুলনায় এটির ২৫% কম শক্তি খরচ হয়।
বাহরাইন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ১ এবং ২ (বাহরাইন)
বিল্ডিংটির কার্যক্রম শুরু হয়: ২০০৮ সালে
বিভিন্ন অফিসের কাজে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে “এটকিন্স আর্কিটেকচার”
অবিশ্বাস্য ৭৮৭ ফুট উচ্চতার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্সটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তিনটি টারবাইন বসানো হয়েছে। মরুভূমির বাতাসে টারবাইন গুলো ঘোরে এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যা ভবনটির প্রায় ১৫ ভাগ বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে ফেলেছে। এছাড়াও টারবাইনগুলো বাতাসকে সুরক্ষিত করা সহ বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ভবনটির শীতলীকরণে সহায়তা করে।
মিউজিয়াম অফ টুমোরো ( রিও ডি জেনেরিও, ব্রাজিল)
বিল্ডিংটির কার্যক্রম শুরু হয়: ২০১৫ সালে
জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে বিখ্যাত স্থপতি “সান্তিয়াগো ক্যালাত্রাভা”
রিওর বোটানিকেল গার্ডেনের ব্রোমেলিয়াড দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এর পৃথক পৃথক দেয়াল থেকে প্রসারিত ছাদ যা সামনের জলাশয়ে প্রতিফলিত এবং কঙ্কালের মত কাঠামো দিয়ে স্থপতি সান্তিয়াগো ক্যালতাভা সম্ভাবনার একটি প্রমাণ বোঝাতে চেয়েছেন যে ভবিষ্যতে বড় বড় ভবন গুলি জলাশয় গুলোকে কে খেয়ে ফেলছে। এটি টেকসই ডিজাইনের বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যাডজাস্টেবল ফাইন-জাতীয় সোলার প্যানেলগুলো যা বিল্ডিংয়ের নান্দনিকতাকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং একটি পাম্পিং সিস্টেমের মাধ্যমে উপকূল থেকে শীতল পানি নিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে।
ভ্যানকুবার কনভেনশন সেন্টার (ভ্যানকুবার, কানাডা)
ভবনটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালে
ট্রেড শো এবং সম্মেলন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে বিখ্যাত স্থপতি কোম্পানি “এলএমএন আর্কিটেক্টস”
ভ্যানকুভার কনভেনশন সেন্টার ওয়েস্ট হ'ল কে দেখলেই আপনার প্রথমেই মনে হবে শহরটিকে ঘিরে যেন এক শহুরে মরূদ্যান। এই ভবনটির ছাদে আশ্চর্যজনক প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে । ছাদে যে ছোট ছোট ঘাস এবং উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে তাতে পরাগায়নের জন্য চারটি মৌমাছির আবাসস্থল বানিয়ে দেয়া হয়েছে। তাত করে গ্রীষ্মের সময় ভবনটিতে তাপ হ্রাস পায় এবং শীতকালে যথেষ্ট তাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভবনটির এই পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প গুলো শুধু ছাদেই সীমাবদ্ধ নয় পানির নিচের পিলার গুলোর পাশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য দেশী কাঁকড়া, সালমন এবং শেলফিশ সহ বেশ কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী চাষের মাধ্যমে একটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে তৈরি করা হয়েছে।
সাংহাই টাওয়ার (সাংহাই, চীন)
বিল্ডিংটির কার্যক্রম শুরু হয়: ২০১৫ সালে
অফিস হোটেল এবং বাণিজ্যিক ভবন হিসবে হিসেবে ব্যবহার করা এই ভবনটির ডিজাইন করে বিখ্যাত চীনা স্থপতি “জেন্সলের”
২০৭৩ ফুট উচ্চতা নিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভবন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এটি, চীনের বিস্ময়কর স্থাপনা গুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের জন্য ভবনটির চারপাশে একটি এয়ার ক্যাপচার স্তর দিয়ে মোড়ানো আছে। যা বাতাস নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে অনেক খরচ কমিয়ে এনেছে। এছাড়াও ভবনটির বাহিরের দিকে শক্তি উৎপাদনের জন্য যে টারবাইন রয়েছে তা সম্পূর্ণ সূর্যালোকের মাধ্যমে চলে।
পরবর্তী পর্বে আসছি আরো ৬ টি বিস্ময়কর ভবনের তথ্য নিয়ে। যেগুলো যুগের পর যুগ ধরে ইকো সিস্টেমকে সাহায্য করে আসছে।