অবিক্রীত দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

সিরাজগঞ্জে দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সীমিতভাবে আবার দুধ কিনতে শুরু করেছে। গত এক মাস ধরে বড়ো ধরনের লোকসানের পর দুধ বিক্রির সুযোগ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও অবিক্রীত দুধ নিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। সেই সঙ্গে রমজান মাসে স্থানীয় অনেক গ্রাহক দুধ কিনলেও রমজান-পরবর্তী কী হবে, তা নিয়ে একধরনের শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে। কেননা, দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো তাদের ‘ফুল ক্যাপাসিটি’ অনুসারে দুধ কিনছে না।


দুগ্ধ খামারিরা জানান, মিল্ক ভিটা গত ২৮ এপ্রিল থেকে দুধ কেনা শুরু করেছে। আড়ং, প্রাণ ডেইরি, ফার্ম ফ্রেশ, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরি ও ব্র্যাক দুধ কিনছে; কিন্তু আগের তুলনায় পরিমাণে অর্ধেক। রমজানের পরে যদি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং আবার যদি সব বন্ধ হয়ে যায় তখন কী হবে?

উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৌড় প্রাথমিক দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বোয়াইলমারী সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, একই জেলার বেড়া উপজেলার হাঁটুরিয়া জগন্নাথপুর সমিতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মিল্ক ভিটা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ দুধ না কিনলে তো আমাদের সমস্যা দূর হচ্ছে না। তারা এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পুরো দুধ বিক্রির ব্যবস্থাসহ ভুসাল ও দানাদার গোখাদ্য রেশনের মাধ্যমে প্রদানের দাবি জানান। খামারিরা বলেন, সরকার ঘোষিত ছুটিকালীন এসব খাতে নিরবচ্ছিন্ন উত্পাদন, পরিবহন ও বিপণন সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও গত এক মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দুগ্ধ খামারি সমিতির পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং মানুষের পুষ্টির অভাব দূর করার জন্য ১৯৭৩ সালে বাঘাবাড়িতে মিল্ক ভিটা স্থাপন করেছিলেন। মিল্ক ভিটা ঠিকমতো দুধ কিনে বাজারজাত করলে দেশের লাখ লাখ খামারি দুধ নিয়ে বিপাকে পড়ত না। কিন্তু খামারিদের লোকসান থেকে রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা না করেই হঠাত্ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ায় এই মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গত ২২ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির অভাবে দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ লিটার দুধের সিংহভাগ অংশই ফেলে দিতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ১ মাস ৭ দিনে মোট ক্ষতি হয়েছে ১০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এতে খামারিরা গাভির খাদ্যের জোগান ঠিকমতো দিতে পারেনি। ফলে অধিকাংশ গাভি খাদ্য-পুষ্টির অভাবে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। অন্যদিকে খাদ্য ব্যবসায়ীদের তাগাদায় অতিষ্ঠ হয়ে কিছু খামারি দেনা শোধ করার জন্য ফেলনা দামে গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন। অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খামারিদের রক্ষা করতে না পারলে এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই দুধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে ৪০ লাখ খামারি পরিবারের প্রায় দেড় কোটি মানুষ খাদ্যের সংকটে পড়বে। আমরা শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে সরকারের কাছে দাবি করেছি মাত্র ২০ কোটি টাকা, যা হলে কোনোমতে খামারিরা দাঁড়াতে পারবে। বঙ্গবন্ধুর গড়া এই বিশাল দুগ্ধ শিল্পাঞ্চল। তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী শেখ হাসিনা অবশ্যই এই শিল্পাঞ্চল রক্ষা করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মিল্ক ভিটার বাঘাবাড়ী কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলীর দাবি, তারা নিয়মিত দুধ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।