মো. রকিবুর রহমান
যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যারা ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, জনগণের টাকা লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধে দেউলিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সেইসাথে তাদের লাইফস্টাইলে হাত দিতে হবে। সরকারিভাবে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করে খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেটি একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। ফলে এই সুযোগে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ না করার আরও সুযোগ পেয়ে যাবে। তার চেয়ে বড় কথা হল এই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা যে বন্দকি সম্পদ বা পার্সোনাল গ্যারান্টি জমা দিয়ে ঋণ নিয়েছে তার বাজার মূল্য অনেক কম। ফলে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে অনেক কঠোর হতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দেউলিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে সফলতার সাথে ঋণ আদায় করেছে। দেউলিয়া আইন কঠোর প্রয়োগ বলতে বোঝায় যারা ইচ্ছেকৃতভাবে জনগণের টাকা লুটপাট করেছে তাদের লাইফস্টাইলে হাত দিতে হবে। যেমন চিনে যারা দেউলিয়া আইনের আওতায় পড়েছে তাদের গাড়ি বাড়ি থাকবে না, তাদের সন্তানেরা দামি স্কুলে পড়ালেখা করতে পারবেনা, প্লেনে চড়তে পারবে না, এমনকি বুঔেঁ ট্রেনেও চড়তে পারবে না। এই আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে তিন বছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে মালয়েশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন সরকারও দেউলিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে টাকা আদায়ে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী ১ বছর আগে দেউলিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শুরু করেছেন। তাতে তিনি বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন এবং প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার উপর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ কেউই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে চায়না।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দয়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আন্তরিকতার সাথে সকল ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ২ পার্সেন্ট ডাউন পেমেন্ট দিয়ে একটি বড়ো ধরনের রিসিডিউল করে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বাস্তবে দেখলাম মাত্র অল্প সংখ্যক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ডাউন পেমেন্ট দিয়ে তাদের খেলাপি ঋণ রিসিডিউল করেছে। এরা জেলে যেতে প্রস্তুত কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা এদের একেবারেই নেই। অতএব এদের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত আইন প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
লেখক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি