‘আম্ফান’ মোকাবেলায় প্রস্তুত রামগতি, খুলেছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা সুপার ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ এর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এছাড়া জনগণকে সচেতন এবং সজাগ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জানিয়ে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ দ্বীপ চরাঞ্চলে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসনের উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে লোকজনকে মূল ভূখণ্ডে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে উঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় প্রভাবে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। আকাশ থম থমে অবস্থায় রয়েছে। মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠছে। অনেক জেলে নৌকা নদীর তীরে চলে আসতে শুরু করেছেন। বাজার কিংবা রাস্তা-ঘাট মানুষের আনা-গোনা তেমন একটা নেই।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির-সিপিপি রামগতি উপজেলা টিম লিডার মাইন উদ্দিন খোকন জানান, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সিপিপির উপজেলার ১০১ ইউনিটের এক হাজার ৫১৫জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জানিয়ে তারা নদী তীরবর্তী এলাকায়সহ চরাঞ্চলে মাইকিং শুরু করেছেন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, সুপার ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ মোকাবেলায় উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৪৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই সব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্যও প্রস্তুত রাখতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম চর গজারিয়া তেলির চর থেকে মানুষকে নিরাপদে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘাটে ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি