নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ও আমাবশ্যার কারণে মঙ্গলবার বিকালে হাতিয়া দ্বীপের বয়ারচর, নলেরচর, কেরিংচর, ঢালচর, চরগজারিয়া ও নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চল ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নিঝুমদ্বীপের চেয়ারম্যান মো. মেহেরাজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেশি হওয়ায় এই অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নিচু অঞ্চলের ক্ষেতের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুপুর পর্যন্ত প্রচন্ড রোদ্র থাকলেও হঠাৎ করে বিকেলের দিকে হালকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান।
তিনি জানান, নদীর তীরবর্তী লোকজনকে সরিয়ে আনতে ১৮৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর (সিপিপির) উদ্যোগে এলাকা ভিত্তিক মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে শুকনো খাবার মজুদ করা হয়েছে।
এদিকে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার গুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। হাতিয়া ঘূণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর সহকারী পরিচালক মো. বদিউজ্জামান জানান, এলাকাভিত্তিক সিপিপি’র ২ হাজার ৬৬৫ জন ভলেন্টিয়ারকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়ন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে বিপদকালীন লোকজনকে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
ইত্তেফাক/এএম