ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: শ্যামনগরে ১৪৪ সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব শুরু হয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা। হালকা ঝড়সহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল হতে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে উপকূলীয় এলাকায়। 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তী প্রস্তুতি নিয়ে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। 

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর গিফারী জানান, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ১৪৪ টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। আড়াই হাজার স্বেচ্ছাসেবক সদস্য ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে। উপকূল অঞ্চলে মাইকিং করে জনসাধারণকে করনীয় বিষয়ে জানানো হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তদারকি ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে। জনগণকে নিজ নিজ বাড়ি হতে প্রয়োজনীয় জিনিসিপত্র নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন। আশ্রয় কেন্দ্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণকারীদের খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

আরো পড়ুন: আম্ফানের প্রভাবে হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

এদিকে নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭-৮ ফুট জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধি পেলে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালি ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধগুলো নাজুক অবস্থায় থাকায় মুহূর্তের মধ্যে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ওই ইউনিয়নগুলি প্লাবিত হয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। 

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের গতি বেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭-৮ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম