রাজস্বখাতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দ্রুত স্থায়ী নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি)। গত সোমবার (১৮ মে) নিপসম, মহাখালীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দগণ।
সোমবার প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ প্রদানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় বিএমটিপি'র নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি পর্যায়ে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বল্পতার কারণে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিগত ১২ বছর যাবত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই কম সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে করোনা মোকাবেলা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
গত ২৮ এপ্রিল বিএমটিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন) সহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডাক্তার-নার্সদের নিয়োগের সাথে শূন্যপদ ও নতুন পদ সৃষ্টি করে ২০১৩ সালের আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১৮ হাজার সকল বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের দাবি জানান। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেই ২৮ এপ্রিল ৩৮৬ জনের আউটসোর্সিং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে পরের দিন ২৯ এপ্রিল বিএমটিপি সহ সকল সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তারপরও স্বাস্থ্য অধিদপ্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানায় সংগঠনটি।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংকটময় এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের কাজ করছেন ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। দেশে শূন্য পদ আছে প্রায় ২ হাজার ৭০০। অথচ দেশে বেকার মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এরকম প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের করোনা মহামারির মতো পরিস্থিতিতে কাজে না লাগিয়ে বেকার বসিয়ে রাখাটা কি ঠিক হচ্ছে?’
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএমটিপি'র প্রধান উপদেষ্টা জনাব মো. আলমগীর আহম্মেদ, সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ার (ভারপ্রাপ্ত), সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দগণ।
ইত্তেফাক/আরএ