বাগেরহাটের শরণখোলায় সুপার সাইক্লোন আম্ফানে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। প্রস্তত করা হয়েছে ১৩০ টি সাইক্লোন শেল্টার। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের বনরক্ষীদের। মেডিক্যাল টিম গঠনসহ বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ী, রায়েন্দা, সাউথখালী, গাবতলা, বগী, তেরাবাকা ও শরণখোলা অংশে বলেশ্বর নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে ফলে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামাঞ্চল প্লাবিত হবে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওইসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তার ইউনিয়নের মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে বলে তিনি জানান।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, রায়েন্দা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় রায়েন্দা, উত্তর কদমতলা, জিলবুনিয়া, রাজেশ্বর ও চাল রায়েন্দা গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় উপজেলায় ১৩০ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখাসহ খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। এসব শেল্টারে প্রায় ৭০ হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবে। আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য ৩ টন শুকনো খাবার ও গুড় মজুদ করা হয়েছে। মানুষজনকে সাইক্লোন শেল্টারে নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরো পড়ুন: বিসিবির ঈদ বোনাস পাচ্ছেন ১৬শ ক্রিকেটার
সুন্দরবন বন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষতির হাত থেকে বন বিভাগের জলযান, লোকবল রক্ষায় সকল টহল ফাঁড়ি, স্টেশন ও রেঞ্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন শ্যালারচর টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ি এবং কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষীদের সুপতি স্টেশনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন কবীর জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে আহতদের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে শরণখোলায় ৫টি মেডিক্যাল টিম গঠন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকল ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম