মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খেটে খাওয়া মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঠিক এই মুহূর্তে আর্ত মানবতার সেবায় বিশেষ করে প্রান্তিক অবস্থানে থাকাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন একদল তরুণ সাংবাদিক। তাদের সহায়তা বঞ্চিত হয়নি রাস্তার কুকুর, বানর কিংবা ঘোড়াও।
মহামারির সময়ে সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষ ও পশুপাখিদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন পেশায় ‘সাংবাদিক’ এসব তরুণদের সংগঠন ‘সঙ্গে আছি’। তাদের লক্ষ্য একটাই- কোনো মানুষ ও পশুপাখিই যেন অভুক্ত না থাকে। লকডাউনে বেদে সম্প্রদায়ের আয়-রোজগার নেই। তাই তুরাগে এই সম্প্রদায়ের ৬৫ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে ‘সঙ্গে আছি’। এছাড়া হিজরা ও ডোম সম্প্রদায়ের ৩০০ জনকেও খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজধানীর খাবারের হোটেল বন্ধ। তাই খাবারের উচ্ছিষ্ট আর জুটছে না কুকুরের ভাগ্যে। ফলে অভুক্ত থাকছে কুকুর। খাবার না পেয়ে অবলা প্রাণ কষ্ট পাচ্ছে। তাই অভুক্ত এসব কুকুরদেরও খাবার দিচ্ছে ‘সঙ্গে আছি’ সংগঠনটি। গভীর রাতে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে প্রায় চার হাজার কুকুরকে খাবার দিয়েছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।
করোনায় লকডাউনে মানুষ যেমন বিপদে আছে, তেমনি খাবারের অভাবে বিপাকে পড়েছে পুরান ঢাকার বানরও। ঢাকা শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি মিশে আছে এসব বানর। পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরে বানরকে ফল খাইয়েছে তারা। প্রায় ১৫০টি বানরের মুখে খাবার তুলে দেয় সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের ধারক টমটমে এক জোড়া ঘোড়া ব্যবহার হয়ে থাকে।
রাজধানীর বঙ্গবাজারে উড়াল সড়কের নিচেই রয়েছে ৪৫টি টমটমের ঘোড়া। গাড়ি চলে না, তাই আয় বন্ধ। ঘোড়ার খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছে মালিক। খবর পেয়ে, এসব ঘোড়ার একদিনের খাবার দিয়েছে সংগঠনটি। এই লকডাউনে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে মধ্যবিত্তরা। তাদের কথা মাথায় রেখে সঙ্গে আছি’র ফেসবুকপেইজের মাধ্যমে ঠিকানা সংগ্রহ করে মধ্যবিত্তদের বাসায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল তেল আলু পিয়াজ আদা ও রসুন) পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। রাতে রাজধানীর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল মানুষকে রান্না করা খাবারও খাওয়ানো হচ্ছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে পথচারী, রিকশাচালক, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে ইফতার খাবার বিতরণ করছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সঙ্গে আছি'। ইফতারের আগ মুহূর্তে খাবার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রোজাদারেরা। দুই হাজার মানুষকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপহার দেন তারা। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রমজানের বাকি দিনগুলোতে এই ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ‘সঙ্গে আছি’ সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক বারেক কায়সার।
তারা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো তিনবেলা খাবার পাচ্ছেন না। নিম্নআয়ের মানুষের অবস্থা আরও করুণ। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার লজ্জায় কারও কাছে খাবার চাইতে পারছেন না, না খেয়ে দিন পার করছেন। এসব বিষয় মাথায় রেখে লকডাউনের শুরু থেকে 'সঙ্গে আছি, সঙ্গে থাকুন' শ্লোগানে ওই সংগঠনের যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষকে খাবার বিতরণ করা হয়। ইতিমধ্যে সাত হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিদিন পশু পাখিকেও খাবার বিতরণ করা হয়। সংগঠনের দফতর সম্পাদক রফিক রাফি জানান, আসন্ন ইদকে সামনে রেখে ইদ উপহার বিতরণ করা শুরু হয়েছে। অসহায় মানুষদের সহায়তা করতে পারাই এই সংগঠনের সফলতা। সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকল সামর্থবান পেশা-শ্রেণীর মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যোগাযোগ-01711020420, 0176653913, 01912774226.
ইত্তেফাক/এসআই