ঈদের দিনে ভিক্ষাবৃত্তি ও সাদাকাতুল ফিতর

রিদওয়ান বিন ওয়ালী উল্লাহ

ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে সাদাকাতুল ফিতর। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষ, বালেগ-নাবালেগ, স্বাধীন ও দাস-দাসীর ওপর এক সা পরিমাণ প্রচলিত খাদ্য যেমন—খেজুর, যব, কিশমিশ, পনির, গম, আটা, চাল (বুখারি-মুসলিম) অথবা (কারো কারো মতে) সেই পরিমাণ অর্থ (২০২০ সালের জন্য ৭০ থেকে ১৯৮০ টাকা পর্যন্ত; সূত্র :ইফাবা) গরিব-মিসকিনকে দান করা। রোজাদারের পবিত্রতা ও মিসকিনের খাবারের ব্যবস্থাস্বরূপ রাসূল (স) সাদাকাতুল ফিতর ঈদগাহে বের হওয়ার আগেই আদায় করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন (আবু দাউদ)। রাসুল (স) আরো বলেন, এই দিনে (ঈদের দিন) তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত রাখো (দারুকুতনি)।

গরিব-মিসকিনকে এই দিনে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত রেখে সবার সঙ্গে সমানভাবে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার নামই সাদাকাতুল ফিতর। অথচ এই হিকমত বুঝতে না চাওয়ার কারণে আজও ঈদগাহে ভিক্ষুকের সারি পরিলক্ষিত হয়। ফলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করার মূল লক্ষ্য হাসিল হয় না।

বিত্তশালীদের অধিকাংশই নামকাওয়াস্তে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করেন। সাদাকাতুল ফিতর সামর্থ্যবানের ওপর ওয়াজিব হওয়ার কারণে তা অপেক্ষাকৃত গরিব-মিসকিনের হাতে ঈদগাহে বের হওয়ার আগেই বা ঈদের দিনের আগেই পৌঁছে দেওয়া তারই দায়িত্ব। যেন সাদাকাতুল ফিতর নিতে তার নিকট অসহায় মানুষটিকে গিয়ে হাত বাড়াতে না হয়। দেশের বিভিন্ন স্কলারগণ গবেষণা করে নিশ্চিতভাবে দেখিয়েছেন, সঠিকভাবে যাকাত-ফিতরা আদায় ও বণ্টন হলে বাংলাদেশে থাকবে না কোনো দরিদ্র (দারিদ্র্যবিমোচনে যাকাতের ভূমিকা :ইমাম বাতায়ন)। বিলুপ্ত হয়ে যাবে ভিক্ষার অভিশাপ।

 lলেখক :এম.ফিল গবেষক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া