গাংনীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে আলতা সুন্দরী খাতুন (৪৮) নামের এক পরিচ্ছন্নকর্মীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘর থেকে তার স্বামী রুস্তম আলীকে (৫৫) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি গাংনী উপজেলার নতুন মটমুড়া গ্রামে। বর্তমান উপজেলার বামন্দী শহরের একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করে আসছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বামন্দী শহরের সাইদুর রহমান টবুর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, রুস্তম আলী ও তার স্ত্রী সুন্দরী খাতুন কয়েক বছর ধরে বামন্দী শহরে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। কর্মের সুবাদে তারা বামন্দী শহরের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৫ মে সকালের দিকে তাদের অনেকে দেখলেও দুপুরের পর থেকে তাদের বাজারে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে বামন্দী শহরের তাদের ভাড়া করা বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দূর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়। গাংনী থানা ও স্থানীয় বামন্দী ক্যাম্প পুলিশের দুটি দল এসে ওই কক্ষ খুলে সুন্দরী খাতুনের গলিত লাশ ও প্রায় ২ ঘণ্টা পর তার স্বামীকে অন্য কক্ষ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে।
গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সুন্দরী খাতুন নামের একজনের লাশ ও তার স্বামী রুস্তম আলীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কোন সন্ত্রাসী চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের স্বামী-স্ত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিকদল মাঠে নেমেছে। সুন্দরী খাতুনের লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বামী রুস্তম আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি