ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বাস্তব। উন্নত বিশ্বে স্মার্ট পোশাকের বাজার বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব পোশাকের বাজার চাহিদা বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও রয়েছে। মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে বস্ত্র অন্যতম। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের পছন্দের পোষাক তৈরি করাকেই চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন দেশীয় স্বনামধণ্য ফ্যাশন ব্র্যান্ড মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভের প্রধান ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী মুসলিম ঢালী। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন
মোহাম্মাদ সুজন
ছোটবেলা থেকেই ভীষণ আত্মবিশ্বাস ছিলেন মুসলিম ঢালী। সবার উন্নতির কথা ভেবেছেন। পরে উপলব্ধি করেন কি করে শুরু করা যায়। তিনি বলেন, আমার প্রথম লক্ষ ছিল কর্মসংস্থানের সুযোগ করা। আশির দশকে বাংলাদেশে কেরানীগঞ্জ তৈরি পোশাক শিল্পের রমরমা ব্যবসা। নিজেকে নিয়ে অনেকটা বাজিই ধরেছিলেন তিনি। প্রচুন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। গড়ে তোলেন মুসলিম গার্মেন্টস। তারপর যত এগিয়েছেন ততই বেড়েছে সফলতা। এখনো যেতে চান আরো অনেকটা পথ। স্বপ্ন হাতে ভরে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি । একমাত্র স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের বেকার সমস্যা দূর করা বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এক্ষেত্রে অনেক অংশে সফল হয়েছেন এই তরুণ সৃষ্টিশীল ব্যবসায়ী।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে গড়ে তুলেছেন পরিবেশবান্ধব গার্মেন্ট ফ্যাষ্টারি। প্রযুক্তি ও আধুনিক মেশিন এর সাহায্যে উপাদন হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। মুসলিম ঢালী বলেন, দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার কর্মরত রয়েছেন মুসলিম কালেকশনে। প্রায় সাত-আটশত সংখ্যক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নারী-পুরুষ কর্মী কর্মরত রয়েছে মুসলিম গার্মেন্টসে। কারখানায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিক সংখ্যক নারী শ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাইলে মুসলিম ঢালী বলেন, নারী এখন রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে গাড়িচালনা সবক্ষেত্রেই সমান পারদর্শি। শ্রমের সবকটি বিভাগেই রয়েছে তার সমান পদচারণা।
নারীর অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাই এর মূল কারণ। এ সক্ষমতা অর্জনের জন্যই প্রয়োজন নারীর কর্মের অধিকার তথা শ্রম অধিকার। যতো বেশি সংখ্যক নারী কর্মজগতে প্রবেশ করবে ততোই নারী তথা রাষ্ট্রের কল্যাণ।বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারী শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখন আর পিছিয়ে নাই। এমন কোনো খাত নেই যেখানে নারীরা কাজ করছে না। দেশ-বিদেশে, গ্রামে-শহরে, কলকারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, কৃষি, গৃহকর্ম- সব জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। মোট কথা, সমগ্র অর্থনীতিতে নারীর অবদান দৃশ্যমান।তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা, শিক্ষা ও বিনোদন। একজন শ্রমিকের জীবনধারনের জন্যও এসব বিষয় জরুরি। কর্মীদের স্বাস্থ্য সেবা ফায়ার সেফটিসহ বিভিন্ন ধননের সামাজিক সচেতনা মূলক কাজে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করে থাকি। শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষে আমি বিভিন্ন র্কাযক্রম পরিচালনা করছি। মুসলিম কালেকশনে কর্মরত সকল শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষে আইন, নীতিমালা, বিধিমালা প্রণয়নসহ সময়ে সময়ে বিভিন্নি দিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকি। আমার শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ যথাযথভাবে প্রতিপালনে বিষয়টি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করি।
মুসলিম ঢালী বলেন, স্বল্প সুদে সকল ব্যসায়িদের মাঝে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা হলে এই গার্মেন্টস সেক্টর আরো সম্পসারিত হতো। এতে করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি পোশাক শিল্পের বিস্তার করে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো এবং দেশের শিক্ষিত বেকার সমস্যার অনেক অনেকটা কমে আসতো।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের যারা পোশাক শিল্পে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের কাছে আমার বার্তা হলো এই শিল্প সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। সময়কে গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমার বিশ্বাস এখনো এই শিল্পে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।