আবুল কাসেম ভুঁইয়া
দেশে আমের মৌসুমে প্রচুর আম উত্পাদন হচ্ছে। এবারও আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমের মৌসুমে আমচাষিরা হাজার হাজার টন আম উত্পন্ন করে থাকে। আমাদের দেশের আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পর্যন্ত রপ্তানি হচ্ছে। এবারে আমচাষিরা তাদের উত্পাদিত আম নিয়ে চিন্তিত। কারণ দেশে বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ রয়েছে। দেশের উত্তরবঙ্গের আম পরিবহনে রেলওয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এবার আম নিয়ে চিন্তিত পার্বত্য অঞ্চলের চাষিরা। এই আম যদি বিক্রি করা না যায় তবে হাজার হাজার টন আম বাগানেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতি বছর প্রচুর আম উত্পন্ন হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের আম উত্পাদনকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় তারা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার আম বিক্রি করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আম কীভাবে বিক্রি করবেন তা নিয়ে তারা চিন্তিত আছেন। আমাদের দেশে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের বড়োই অভাব রয়েছে। আমগুলো যদি যথাযথ সংরক্ষণ অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যেত তাহলে আমগুলো রক্ষা হতো। এখন সেই ব্যবস্থা নেই। আমচাষিরা জানান তারা এই আম উত্পাদন করতে গিয়ে অনেক টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন। তাছাড়া আম উত্পাদন করে তারা সারা বছরে ভালো একটা লাভের মুখ দেখতে পেত।
এবার যদি আম বিক্রি করতে না পারলে তাদেরকে বড়ো ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে। স্বল্প পুঁজির বাগান মালিকরা যদি লোকসান দেন তাহলে আগামীতে তাদের পক্ষে আম উত্পাদনে যাওয়া কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। আমের পুরোপুরি মৌসুম আসতে আর বেশি দেরি নেই।
সুতরাং এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে কীভাবে এই আমের সুষ্ঠু বাজারজাত করা যায়। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা যেন সহজে আম ক্রয় করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বাইরে যেসব দেশে আম রপ্তানি করা হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।